ধ্বংসের ৩৩ বছর পর  নতুন ‘বাবরি মসজিদের’ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন আজ

ধ্বংসের ৩৩ বছর পর  নতুন ‘বাবরি মসজিদের’ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন আজ
নিউজ ডেস্ক
৬ ডিসেম্বর ২০২৫

ভারতের অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ৩৩ বছর পর পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদে নির্মিত হতে যাচ্ছে একই নামের আরেকটি মসজিদ। শনিবার (৬ ডিসেম্বর) রেজিনগরে এই মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কৃত বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। পুরো ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশ।

কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের হওয়া মামলায় ডিভিশন বেঞ্চ হস্তক্ষেপ না করায় এ অনুষ্ঠানের সামনে আপাতত কোনো আইনি বাধা নেই। আদালত বরং রাজ্য সরকারকে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছে।

এর আগে রাজ্যের পরিস্থিতি অশান্ত হতে পারে আশঙ্কায় গভর্নর সি ভি আনন্দ বোস হুমায়ুন কবীরকে গ্রেপ্তার করতে প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত গ্রেপ্তার হয়নি তিনি।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

স্থানীয় সূত্র জানায়, আজ দুপুর ১২টায় অনুষ্ঠানের সূচনা হবে। মরাদিঘি এলাকায় প্রায় ৬০–৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে জমকালো আয়োজন করা হয়েছে।

অতিথিদের জন্য ৪০ হাজার প্লেট শাহি বিরিয়ানি প্রস্তুত করছে সাতটি ক্যাটারার,স্থানীয় আরও ২০ হাজার মানুষের জন্য আলাদা খাবারের ব্যবস্থা,খাদ্য খাতে ব্যয় ৩০ লাখ টাকা,১৫০ ফুট লম্বা ও ৮০ ফুট চওড়া মঞ্চ নির্মাণে ব্যয় ১০ লাখ টাকা,২৫ বিঘা জমিতে ৩ লাখ মানুষের সমাগমের পরিকল্পনা,নিরাপত্তায় স্বেচ্ছাসেবক ২–৩ হাজার জন।

এ ছাড়া কেন্দ্রীয় আধা সামরিক বাহিনীও মোতায়েন করা হয়েছে।

হুমায়ুন কবীরের এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক টানাপোড়েন।

বিজেপির দাবি মসজিদের নাম ব্যবহার করে তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়াচ্ছেন।তৃণমূলের মতে সংখ্যালঘু আবেগ নিয়ে হুমায়ুন রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে চাইছেন।

হুমায়ুন অবশ্য নিজ অবস্থানে অটল। শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, তিন বছরের মধ্যে মসজিদ নির্মাণ সম্পন্ন হবে এবং এর পুরো অর্থ জোগাবেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। অনুষ্ঠান শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে তিনি পুলিশের সহযোগিতা চান।

হুমায়ুন কবীর স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তৃণমূলের সঙ্গে তার সম্পর্ক এখন শেষ।

১৭ ডিসেম্বর তিনি বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দেবেন।২২ ডিসেম্বর বহরমপুরে এক গণসমাবেশ থেকে ঘোষণা করবেন নতুন একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাজনৈতিক দল।

এর আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভার আগেই তাকে দল থেকে সাময়িক বরখাস্ত করার ঘোষণা দেওয়া হয়। ক্ষুব্ধ হয়ে সভাস্থল ত্যাগ করেন হুমায়ুন এবং জানান—ঘোষণা অনুযায়ী ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের কাজ তিনি করেই ছাড়বেন।