ভেনেজুয়েলায় ট্রাম্পের অভিযান: কী কারণ ও লক্ষ্য?
গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের সেনা বাহিনী ভেনেজুয়েলায় অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করেছে। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, মাদুরোর নেতৃত্বে দেশটি যুক্তরাষ্ট্রে মাদক ও অপরাধী গোষ্ঠীর কার্যক্রম পরিচালনা করছে। অভিযানের পর মাদুরো দম্পতিকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসা হয়েছে এবং তারা মার্কিন আইনে বিচারের মুখোমুখি হবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মহলে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। মাদুরো সরকারের পক্ষ থেকে অভিযোগ এসেছে, যুক্তরাষ্ট্র মূলত ভেনেজুয়েলার সমৃদ্ধ তেলসম্পদ দখলের উদ্দেশ্যে ‘মাদক বিরোধী অভিযান’কে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করছে। মাদুরো উল্লেখ করেছেন, এই অভিযান দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এ ধরনের অভিযান শান্তিকালীন সামরিক কার্যক্রমের বাইরে পড়ে এবং এতে বেসামরিকদের ওপর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, অভিযানের লক্ষ্য ছিল মাদুরো সরকারের মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং কোনো প্রকার সরাসরি হামলা নয়।
ভেনেজুয়েলা বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম অপরিশোধিত তেল মজুদের দেশ। দেশটির বৈদেশিক আয়ের প্রধান উৎস তেল রপ্তানি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অভিযান শুধুমাত্র মাদক নিয়ন্ত্রণের নামে হলেও দেশটির অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় বড় ধাক্কা দেবে।
ভেনেজুয়েলার জনগণের মধ্যে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে হতাশা ও উদ্বেগের ছাপ দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর এখন আঞ্চলিক নিরাপত্তা, সামরিক উত্তেজনা ও দেশটির সার্বভৌম অধিকারের ওপর।


