ইরানে অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ জোরালো
ইরানে তীব্র অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেই সরকারবিরোধী বিক্ষোভ আরও তীব্র রূপ নিয়েছে। রাজধানী তেহরান ছাড়াও কোম, ইসফাহান, বান্দার আব্বাস, মাশহাদ, ফারদিস ও বোজনুর্দসহ দেশের বিভিন্ন শহরে নতুনভাবে বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে ইসফাহানে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থা আইআরআইবি-এর একটি ভবনে আগুন দেয়ার দৃশ্য দেখা গেছে। তবে ইরানে সংবাদ ও ইন্টারনেট সীমিত থাকায় এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ইরানি কর্তৃপক্ষ যদি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে সহিংসতা চালায়, তবে যুক্তরাষ্ট্র তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখাতে প্রস্তুত। ২০২৬ সালের ৯ জানুয়ারি তার সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে তিনি উল্লেখ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র “লকড অ্যান্ড লোডেড”—যাতে যে কোনো সময় হস্তক্ষেপ সম্ভব।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান দেশের অস্থিরতা মোকাবিলায় চরম সংযম বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি নিরাপত্তা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারী ও সশস্ত্র দাঙ্গাকারীদের মধ্যে পার্থক্য রাখতে হবে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলো অভিযোগ করেছে, আন্দোলনের শুরু থেকে অন্তত ৪৫ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। বিভিন্ন ভিডিওতে আগুন, কাঁদানে গ্যাস এবং গোলাগুলির দৃশ্য দেখা গেছে। যদিও সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, হতাহতের ঘটনা হয়েছে সহিংস সংঘর্ষের কারণে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি অর্থনৈতিক সংকট স্বীকার করে সহিংসতার জন্য বহিরাগত শক্তিকে দায়ী করেছেন। তেহরান সরকার জানিয়েছে, সামরিক বাহিনী সতর্ক অবস্থায় রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের যে কোনো হামলার জবাবে সীমাহীন প্রতিক্রিয়া দেখানো হবে।
এদিকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও ইরানে সহিংসতা ও অস্থিরতার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। জার্মানি ইতোমধ্যেই বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের নিন্দা জানিয়েছে।
একটি পর্যবেক্ষক সংস্থা জানিয়েছে, ৯ জানুয়ারি দেশজুড়ে ইন্টারনেট কার্যত বন্ধ করা হয়েছে, যা তথ্য প্রবাহ সীমিত করে দিয়েছে এবং অস্থিরতা আরও বৃদ্ধি করেছে।


