মার্কিন সামরিক সহায়তার ওপর নির্ভরতা কমাতে চায় নেতানিয়াহু
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তার ওপর ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের নির্ভরতা ধীরে ধীরে কমানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। তিনি বলেছেন, ভবিষ্যতে ইসরায়েলের লক্ষ্য হলো বিদেশি সামরিক সহায়তা ছাড়াই নিজস্ব সক্ষমতার ওপর দাঁড়ানো।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) ব্রিটিশ সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্ট-এ প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, আগামী ১০ বছরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া সামরিক সহায়তা ধাপে ধাপে কমিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এমনকি এই সহায়তা একপর্যায়ে শূন্যে নামিয়ে আনার কথাও ভাবা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বছরের পর বছর ইসরায়েলকে যে সামরিক সহায়তা দিয়েছে, তার জন্য দেশটি কৃতজ্ঞ। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাতে এ কৃতজ্ঞতার কথা তিনি সরাসরি জানিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন। তবে নেতানিয়াহু বলেন, বর্তমানে ইসরায়েল সামরিকভাবে আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী এবং নিজস্ব সক্ষমতা অর্জন করেছে।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর অংশ হিসেবে দেশটি নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্পে বড় ধরনের বিনিয়োগ করছে। গত ডিসেম্বর নেতানিয়াহু ঘোষণা দেন, অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনে স্বনির্ভর হতে প্রায় ৩৫০ বিলিয়ন শেকেল বা প্রায় ১১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করা হবে।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে স্বাক্ষরিত ১০ বছরের সামরিক সহায়তা চুক্তি অনুযায়ী ২০২৮ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ইসরায়েল মোট ৩৮ বিলিয়ন ডলার সহায়তা পাবে। এর মধ্যে ৩৩ বিলিয়ন ডলার সামরিক সরঞ্জাম কেনায় এবং ৫ বিলিয়ন ডলার ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ব্যয় হওয়ার কথা।
এদিকে, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা শিল্পে ইতোমধ্যে অগ্রগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। গত বছর দেশটির প্রতিরক্ষা রপ্তানি ১৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও সামরিক প্রযুক্তি রপ্তানিতে একাধিক বড় আন্তর্জাতিক চুক্তিও সই করেছে ইসরায়েল।


