ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলন জোরালো, সরকারের পাশে সেনাবাহিনী

ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলন জোরালো, সরকারের পাশে সেনাবাহিনী
নিউজ ডেস্ক
১১ জানুয়ারি ২০২৬

ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ক্রমেই তীব্র হয়ে উঠছে। চলমান আন্দোলনের মুখে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সরকার চাপে পড়লেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী সরাসরি সরকারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। দেশটির সশস্ত্র বাহিনী ‘জাতীয় স্বার্থ রক্ষায়’ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইরানের সেনাবাহিনী জানায়, দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করতে বিদেশি শক্তি ও ‘শত্রু সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ সক্রিয় রয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, সর্বাধিনায়কের নির্দেশনায় সশস্ত্র বাহিনী কৌশলগত স্থাপনা, জনসম্পদ ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থ রক্ষায় যে কোনো পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।

জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি এবং ডলারের বিপরীতে মুদ্রার অবমূল্যায়নের প্রতিবাদে প্রথমে গ্র্যান্ড বাজারের ব্যবসায়ীরা আন্দোলনে নামেন। পরে তা সাধারণ জনগণের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে এবং দেশের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার ব্যাপক গ্রেপ্তার অভিযান শুরু করেছে এবং বিভিন্ন এলাকায় ইন্টারনেট সংযোগ সীমিত বা বন্ধ করে দিয়েছে। রাজধানী তেহরান ছাড়াও রাশত, তাবরিজ, শিরাজ ও কেরমানসহ একাধিক শহরে বিক্ষোভকারীদের সমাবেশের খবর পাওয়া গেছে। তেহরানের উত্তরাঞ্চলে শনিবার রাতে মানুষ আতশবাজি ফাটিয়ে ও হাঁড়ি-পাতিল বাজিয়ে প্রতিবাদ জানায়।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো সরকারকে সংযম দেখানোর আহ্বান জানিয়েছে। নরওয়েভিত্তিক সংগঠন ইরান হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে এখন পর্যন্ত অন্তত ৫১ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে নয়জন শিশু রয়েছে। আহত হয়েছেন শত শত মানুষ এবং গ্রেপ্তার করা হয়েছে বহু আন্দোলনকারী।

রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাসনিম জানিয়েছে, সহিংসতা উসকে দেওয়ার অভিযোগে অন্তত ২০০ জনকে আটক করা হয়েছে। অন্যদিকে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল অভিযোগ করেছে, ইন্টারনেট বন্ধ করে সরকার মানবাধিকার লঙ্ঘনের তথ্য আড়াল করার চেষ্টা করছে।

এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিক্ষোভকারীদের প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জনগণের পাশে রয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, সরকার যদি ব্যাপক প্রাণহানি ঘটায়, তবে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর প্রতিক্রিয়া জানাবে। তবে স্থল অভিযান চালানোর কোনো পরিকল্পনা নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বিশ্লেষকদের মতে, নিরাপত্তা বাহিনীর শক্ত অবস্থানে আপাতত বিক্ষোভ দমন করা গেলেও মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব ও অর্থনৈতিক সংকটের মতো মূল সমস্যাগুলোর সমাধান না হলে দীর্ঘমেয়াদে অস্থিরতা কাটানো কঠিন হবে। সরকারের ঘোষিত মাসিক ভর্তুকি সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তে থাকা অর্থনৈতিক চাপ কমাতে যথেষ্ট নয় বলেও তারা মনে করছেন।