রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকার করল মিয়ানমার সরকার

রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকার করল মিয়ানমার সরকার
নিউজ ডেস্ক
১৭ জানুয়ারি ২০২৬

নেদারল্যান্ডসের হেগে জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালত ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসে (আইসিজে) রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার শুনানিতে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছে মিয়ানমার। মামলার শুনানির প্রথম দিনে দেশটির সরকার গাম্বিয়ার আনা গণহত্যার অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছে।

শুক্রবার আদালতে মিয়ানমারের পক্ষে বক্তব্য দেন সরকারের প্রতিনিধি কো কো হ্লাইং। তিনি বলেন, গাম্বিয়া যে অভিযোগ তুলেছে, তা প্রমাণ করতে তারা ব্যর্থ হয়েছে এবং উপস্থাপিত তথ্য আইনি মানদণ্ড পূরণ করে না। তার দাবি, মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন ও টেকসই নয়।

এর আগে শুনানিতে গাম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাওদা জ্যালো অভিযোগ করেন, মিয়ানমার সরকার একটি সুপরিকল্পিত ‘গণহত্যামূলক নীতি’ গ্রহণ করে রাখাইন রাজ্যে বসবাসরত রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্ঠীকে ধ্বংসের চেষ্টা চালিয়েছে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

২০১৭ সালে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর অভিযানে হাজার হাজার রোহিঙ্গা নিহত হন এবং প্রাণ বাঁচাতে প্রায় ৭ লাখ ৪০ হাজার মানুষ বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন। পরের বছর জাতিসংঘের এক স্বাধীন তদন্ত প্রতিবেদনে মিয়ানমারের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে তদন্তের সুপারিশ করা হয়।

মিয়ানমার সরকার শুরু থেকেই এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে। বর্তমান সামরিক জান্তা সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, রাখাইন রাজ্যে পরিচালিত অভিযান কোনো জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে নয়; বরং সশস্ত্র বিদ্রোহী ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে পরিচালিত নিরাপত্তা কার্যক্রম ছিল।

আইসিজের শুনানিতে কো কো হ্লাইং বলেন, রাখাইনে সন্ত্রাসী তৎপরতা বাড়তে থাকায় রাষ্ট্র হিসেবে মিয়ানমার নিষ্ক্রিয় থাকতে পারে না। তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, সেনাবাহিনীর ব্যবহৃত ‘ক্লিয়ারেন্স অপারেশন’ শব্দটি একটি প্রচলিত সামরিক পরিভাষা, যা বিদ্রোহ দমন ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে ব্যবহৃত হয়।

২০২১ সালে নির্বাচিত বেসামরিক সরকারকে উৎখাত করে সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখলের পর এই প্রথম মিয়ানমার আন্তর্জাতিক আদালতে এমন গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানিতে অংশ নিচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই মামলার রায় শুধু মিয়ানমারের আন্তর্জাতিক অবস্থানই নয়, বরং রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ন্যায়বিচারের প্রশ্নেও বড় প্রভাব ফেলবে।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর এখন আইসিজের এই শুনানির দিকে, যেখানে ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকটের আইনি বিচার প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে।