শিশুদের অনলাইন সুরক্ষায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধের পথে যুক্তরাজ্য

শিশুদের অনলাইন সুরক্ষায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধের পথে যুক্তরাজ্য
নিউজ ডেস্ক
২০ জানুয়ারি ২০২৬

শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা জোরদার করতে অস্ট্রেলিয়ার মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে যুক্তরাজ্য সরকার। দেশটির প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্রমেই ক্ষতিকর হয়ে উঠছে।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) এক বক্তব্যে তিনি বলেন, অতিরিক্ত সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাটানোর ফলে শিশুরা অনবরত স্ক্রলিং, উদ্বেগ এবং অন্যদের সঙ্গে নিজেকে তুলনার এক নেতিবাচক চক্রে আটকে পড়ছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। এর অংশ হিসেবে ইনফিনিট স্ক্রলিংয়ের মতো ফিচার সীমিত করা এবং কোন বয়সে শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হবে—সে বিষয়গুলো নতুন করে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

লেবার সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা কার্যকর হবে কি না এবং বাস্তবায়নের পথ কী হতে পারে—সে বিষয়ে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ করা হবে। এ লক্ষ্যে যুক্তরাজ্যের মন্ত্রীরা অস্ট্রেলিয়া সফরের পরিকল্পনা করছেন।

উল্লেখ্য, গত মাসে অস্ট্রেলিয়া প্রথম দেশ হিসেবে ১৬ বছরের নিচে শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করে। তবে যুক্তরাজ্যে এখনো নির্দিষ্ট কোনো বয়সসীমা চূড়ান্ত করা হয়নি। বয়স যাচাই আরও কঠোর করা এবং নির্দিষ্ট বয়সের নিচে নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে।

বিশ্বব্যাপী সরকারগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কারণে শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য ও বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি ক্ষতিকর কনটেন্ট দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় এ উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

এ প্রেক্ষাপটে যুক্তরাজ্য সরকার এআই ব্যবহার করে নগ্ন ছবি তৈরির টুল নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে শিশুদের নগ্ন ছবি দেখা ও শেয়ার ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে।

সরকারের দাবি, অনলাইন সেফটি অ্যাক্ট কার্যকর হওয়ার পর বয়স যাচাইয়ের হার বেড়েছে এবং পর্নোগ্রাফিক ওয়েবসাইটে শিশুদের প্রবেশ কমেছে।

প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেন, “শৈশব মানে লাইক পাওয়ার চাপ বা অপরিচিত মানুষের বিচারের মুখোমুখি হওয়া নয়। অথচ আজ অনেক শিশুর শৈশব কাটছে অন্তহীন স্ক্রলিং আর মানসিক চাপে।” তিনি আরও বলেন, বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে সবচেয়ে কার্যকর সমাধান নির্ধারণ করা হবে এবং এ বিষয়ে সব বিকল্পই খোলা রয়েছে।