কর্তৃপক্ষের রহস্যজনক নিরবতা, বালিয়াকান্দিতে জেলা পরিষদের কোটি টাকার জমিতে বহুতল ভবন নির্মাণ

দেশজুড়ে
কর্তৃপক্ষের রহস্যজনক নিরবতা, বালিয়াকান্দিতে জেলা পরিষদের কোটি টাকার জমিতে বহুতল ভবন নির্মাণ
২৮ জানুয়ারি ২০২৬

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার নারুয়া বাজারে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে জেলা পরিষদের কোটি টাকা মূল্যের জমিতে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। তবে খবর পেয়ে ভবন নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয় জেলা পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা। কয়েকদিন না যেতেই তড়িঘড়ি করে পুরোদমে কাজ চালিয়ে গেলেও কর্তৃপক্ষ রহস্যজনক কারণে নিরব রয়েছে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, রাজবাড়ী জেলা পরিষদের জমিতে নারুয়া গ্রামের মৃত হানিফ আলী শেখের ছেলে সিরাজুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে ৩তলা ভবন নির্মাণ কাজ চালিয়ে আসছে। জেলা পরিষদের নিচু জায়গা বালি দিয়ে ভরাট করে, মাটির নিচে একতলা ও উপরে দ্বিতীয় তলা ভবন নির্মাণ কাজ করছে। প্রকাশ্যে সরকারী জমিতে পাকা স্থাপনা নির্মাণ কাজ চালিয়ে গেলেও নেই কোন পদক্ষেপ। এরআগে জেলা পরিষদ থেকে কাজ বন্ধ করা হলেও রহস্যজনক কারণে নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

বুধবার সকালে সরেজমিন গিয়ে দেখাযায়, নারুয়া গ্রামের সিরাজুল ইসলাম ইতিমধ্যে জেলা পরিষদের জমিতে ৩তলা ভবন নির্মাণ কাজ করেছেন। কয়েকজন নির্মাণ শ্রমিক কাজ করছেন।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, তিনি বিরতিহীন ভাবে কাজ করে আসছেন। রাজবাড়ী জেলা পরিষদ থেকে কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ বন্ধ করে দেন। ২-৩দিন পর আবার শুরু হয়। এভাবেই ভবন নির্মাণ কাজ করে আসছেন বলে জানিয়েছেন।

ভবন উত্তোলনকারী সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমার লীজের জমিতে ভবন উঠাচ্ছি। কোন অনুমতি আছে কিনা সে বিষয়ে কোন সদোত্তর দিতে পারেননি। সব ম্যানেজ করেই কাজ করছি।

রাজবাড়ী জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (অ.দা.) হুমায়ন কবির বলেন, বিষয়টি আমরা অবগত ছিলাম না। খবর পেয়ে সরেজমিন পরিদর্শন করাসহ কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে নতুন করে কাজ শুরুর কথা বললে তিনি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নিবেন বললেও পরবর্তীতে একাধিকবার ফোন করা হলেও ফোন রিসিভ করেননি।

রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার এর সাথে এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে তিনি বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করতে বলেন।

বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী অফিসার চৌধুরী মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, বিষয়টি জেলা পরিষদকে অবগত করা হয়েছিল। জমিটি পরিমাপ করার নির্দেশনা থাকলেও পরিমাপ করা হয়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।