মাঘেই মাথা গরম, চৈত্রে কী হবে: জামায়াত আমীর

রাজনীতি
মাঘেই মাথা গরম, চৈত্রে কী হবে: জামায়াত আমীর
নিউজ ডেস্ক
২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

নির্বাচনি প্রতিপক্ষকে ইঙ্গিত করে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জনগণ তাদের রায় আগেই দিয়ে দিয়েছে। আর এই বাস্তবতা দেখেই অনেকের মাথা গরম হয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, “মাঘ মাসেই যদি কারও মাথা এত গরম হয়ে যায়, তাহলে চৈত্র মাসে কী হবে?”

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর আড়াইটার দিকে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়ায় এক নির্বাচনি জনসভায় এসব কথা বলেন তিনি।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যখন কেউ নিজের ব্যর্থতা চোখের সামনে স্পষ্টভাবে দেখতে পায়, তখন তার আচরণেও অস্থিরতা প্রকাশ পায়। “যেদিকে তাকাই, মাথা গরমের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে,” বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

যুবসমাজের ভূমিকার কথা তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, যারা বুক চিতিয়ে লড়াই করে বাংলাদেশকে নতুন পথে নিয়ে এসেছে, সেই যুবকরাই আগামীর বাংলাদেশ গড়বে। তারা এখনো জেগে আছে, ঘুমিয়ে পড়েনি।

জুলাই আন্দোলনে নারীদের অবদান স্মরণ করে তিনি বলেন, বিপ্লব সফল করতে মা-বোনদের ভূমিকা ছিল অনন্য। “যেদিন মায়েরা রাস্তায় নেমে এসেছিল, সেদিনই স্বৈরাচার বুঝেছিল তাদের শেষ ঘনিয়ে এসেছে,” বলেন তিনি। সেই সময় সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াতে ইসলামী দালালমুক্ত, চাঁদাবাজমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক বাংলাদেশ গড়তে চায়। “আমরা মামলাবাজি, ব্যাংক লুট আর ঋণখেলাপির রাজনীতি চাই না,” বলেন তিনি।

রাজনীতির ধারা পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নোংরা রাজনীতির পথ ছেড়ে পরিষ্কার ও ন্যায়ভিত্তিক রাজনীতির পথে হাঁটতে হবে। জুলাই আন্দোলনের শহীদ ও যোদ্ধাদের প্রতি অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, “আমরা জীবন দেবো, কিন্তু জুলাই কাউকে দেবো না।”

একটি দলের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, দীর্ঘ দেড় দশক সবাই নিপীড়িত ছিল। কিন্তু পরিবর্তনের পর কিছু লোক চাঁদাবাজিতে নেমেছে। “রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে দোকানপাট—সব জায়গায় চাঁদার দাবি করা হচ্ছে,” বলেন তিনি।

বিএনপির বেকার ভাতার প্রতিশ্রুতির সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, যুবসমাজ ভাতা নয়, কাজ চায়। জুলাইয়ের আন্দোলনে তারা ভিক্ষা নয়, মেধার ভিত্তিতে কর্মসংস্থানের দাবি জানিয়েছিল।

তিনি বলেন, অপরাধ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জামায়াত কোনো আপস করবে না। “৫৪ বছরের নেতৃত্ব জনগণের সুস্থ মাথার প্রমাণ দিতে পারেনি। নিজেরা বড়লোক হয়েছে, জনগণ বঞ্চিত থেকেছে,” অভিযোগ করেন তিনি।

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যারা ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ চায় না, তারাই পুরনো বন্দোবস্ত টিকিয়ে রাখতে চায়। নতুন বাংলাদেশ গড়তে পেছনে তাকানোর সুযোগ নেই।

একটি দলের অবস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শুরুতে তারা গণভোট মানতে চায়নি। কিন্তু জনগণের চাপ বাড়তেই এখন তাদের মুখেও ‘গণভোটে হ্যাঁ’ শব্দ শোনা যাচ্ছে।