জাপানের নতুন প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে কড়া বার্তা চীনের
জাপানের জাতীয় নির্বাচনে ভূমিধস বিজয় অর্জনের পর নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচিকে ঘিরে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছে চীন। বেইজিং স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তাইওয়ান ইস্যুতে টোকিও যদি কোনো ধরনের বেপরোয়া সিদ্ধান্ত নেয়, তবে তার উপযুক্ত জবাব দিতে প্রস্তুত রয়েছে চীন।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবার পদত্যাগের পর অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন সানায়ে তাকাইচি। দায়িত্ব গ্রহণের পর নভেম্বরে এক জনসভায় তিনি বলেন, চীন যদি স্বায়ত্তশাসিত ভূখণ্ড তাইওয়ানে হামলা চালায়, তাহলে জাপান সামরিক সহায়তা নিয়ে তাইওয়ানের পাশে দাঁড়াবে।
এই বক্তব্যের পরপরই বেইজিং তীব্র প্রতিক্রিয়া জানালেও জাপান সরকার তখন আর বিষয়টি এগিয়ে নেয়নি। তবে সাম্প্রতিক নির্বাচনে তাকাইচির বিপুল জয় এবং প্রথমবারের মতো জাপানের নির্বাচিত নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার শপথ গ্রহণের অপেক্ষার মধ্যেই ইস্যুটি আবার সামনে আনল চীন।
সোমবার বেইজিংয়ে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে মুখপাত্র লিন জিয়ান বলেন, “জাপানের কট্টর ডানপন্থি শক্তি যদি পরিস্থিতির ভুল মূল্যায়ন করে এবং তাইওয়ান প্রশ্নে দায়িত্বজ্ঞানহীন কোনো পদক্ষেপ নেয়, তাহলে তা চীন-জাপান সম্পর্কের ভিত্তিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। সে ক্ষেত্রে চীন প্রয়োজনীয় জবাব দিতে প্রস্তুত।”
তিনি আরও বলেন, তাইওয়ান ইস্যু চীনের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত এবং এ বিষয়ে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ চীন সহ্য করবে না।
উল্লেখ্য, তাইওয়ান নিজেদের স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে দাবি করলেও চীন বরাবরই দ্বীপটিকে নিজের ভূখণ্ডের অংশ বলে মনে করে আসছে। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে অধিকাংশ দেশ এ বিষয়ে ‘এক চীন নীতি’ অনুসরণ করে।
তাইওয়ানের প্রতি বেইজিংয়ের অবস্থান দীর্ঘদিন ধরেই কঠোর। কূটনৈতিক ও সামরিক চাপ অব্যাহত থাকলেও এখন পর্যন্ত দ্বীপটিতে সরাসরি সামরিক আগ্রাসন চালায়নি চীন।


