ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন কাল: যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের প্রতিক্রিয়া
সকল অপেক্ষার অবসান হতে চলেছে; বৃহস্পতিবার (কাল) অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এবারের নির্বাচনে প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামী। দেশজুড়ে গণঅভ্যুত্থানের পর সাবেক স্বৈরাচার শেখ হাসিনার পতনের পর এবার বাংলাদেশের পরবর্তী শাসক কে হবেন, তা নির্ধারিত হবে ভোটের মাধ্যমে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রয়টার্সকে বলেন, দেশের জনগণ যে সরকার নির্বাচিত করবে, তার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র কাজ করবে। তিনি বলেন,
“বাংলাদেশি জনগণের দ্বারা যে সরকারই নির্বাচিত হোক, ওয়াশিংটন তাদের সঙ্গে কাজ করবে।”
রয়টার্স জানায়, সাবেক দুই মিত্র বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী এবার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। বিভিন্ন মতামত জরিপে দেখা যাচ্ছে, নির্বাচনে এগিয়ে আছে বিএনপি।
একই সাক্ষাৎকারে মার্কিন রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে সামরিক সরঞ্জাম প্রদানের মাধ্যমে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব কমাতে চায়। তিনি বলেন,
“দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র উদ্বিগ্ন। বাংলাদেশ যেন প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের ক্ষেত্রে চীনের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে পারে, সেজন্য যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশগুলো বিভিন্ন উন্নত সামরিক সরঞ্জাম দেওয়ার প্রস্তাব দিচ্ছে।”
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাংলাদেশ ও চীন কৌশলগত অংশীদার হিসেবে রাজনীতি, অর্থনীতি ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে সহযোগিতা করছে। তারা বলেছে,
“বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক তৃতীয় কোনো দেশকে উদ্দেশ্য করে নয়, এবং তৃতীয় কোনো দেশ এতে হস্তক্ষেপ করবে না।”
এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে কূটনৈতিক এবং প্রতিরক্ষা নীতিতে নতুন দিকনির্দেশনার সম্ভাবনা তৈরি করতে যাচ্ছে।
এই নির্বাচন শুধু অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রশ্নই নয়, দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত অবস্থান ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত হচ্ছে।


