নওগাঁ-১ আসনের এমপি মোস্তাফিজুর রহমানকে মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চায় স্থানীয়রা

দেশজুড়ে
নওগাঁ-১ আসনের এমপি মোস্তাফিজুর রহমানকে মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চায় স্থানীয়রা
১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নওগাঁ-১ (নিয়ামতপুর, পোরশা ও সাপাহার) আসন থেকে বিজয়ী বিএনপি প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমানকে মন্ত্রিসভায় দেখতে চান স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ। নির্বাচনের পর থেকেই তিন উপজেলায় এ নিয়ে আলোচনা-প্রত্যাশার জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে মোস্তাফিজুর রহমান পেয়েছেন ১ লাখ ৭৩ হাজার ৮৬৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ মাহবুবুল আলম (দাঁড়িপাল্লা) পেয়েছেন ১ লাখ ৫৩ হাজার ৮১৬ ভোট। ২০ হাজার ৪৮ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন তিনি।

জানা যায়,নওগাঁ-১ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৭৪ হাজার ৬৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৩৫ হাজার ৩৭৭ জন, নারী ২ লাখ ২৮ হাজার ৬৮৪ জন এবং হিজড়া ভোটার ৪ জন। বিস্তীর্ণ এ জনপদ ২০টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত, যার আয়তন প্রায় ৯৬৫ বর্গকিলোমিটার। সীমান্তবর্তী ও অপেক্ষাকৃত দুর্গম হওয়ায় পোরশা ও সাপাহার উপজেলার উন্নয়ন দীর্ঘদিন ধরেই চ্যালেঞ্জের মুখে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

নির্বাচনে বিজয়ের পর থেকেই নিয়ামতপুর, পোরশা ও সাপাহারে স্থানীয় নেতাকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে দাবি উঠেছে এ আসনের প্রতিনিধিকে মন্ত্রিসভায় স্থান দিলে অবহেলিত জনপদের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সমাবেশে বক্তারা বলেন, সীমান্তঘেঁষা এই অঞ্চলে কৃষি, যোগাযোগ ও স্বাস্থ্য খাতে বিশেষ উদ্যোগ প্রয়োজন।

সাপাহার উপজেলার তিলনা ইউনিয়নের বাসিন্দা কৃষক আবদুল খালেক বলেন, “আমরা ধান আর আম চাষ করে বাঁচি। কিন্তু ভালো রাস্তা না থাকায় ন্যায্য দাম পাই না। আমাদের এলাকার উন্নয়নের জন্য শক্ত অবস্থান দরকার। তাই আমরা চাই যেন মোস্তাফিজুর ভাই আমাদের মন্ত্রী হোন।”

নিয়ামতপুর উপজেলার হাজীনগর ইউনিয়নের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী রহিম উদ্দিন বলেন, “আমরা সীমান্তঘেঁষা এলাকায় থাকি। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না হওয়ায় ব্যবসা-বাণিজ্যে পিছিয়ে আছি। এলাকায় শিল্প-কারখানা নেই, কর্মসংস্থানের সুযোগও কম। তাই আমরা চাই যেন মোস্তাফিজুর ভাই আমাদের মন্ত্রী হন, তাহলে নওগাঁসহ পুরো দেশ এগিয়ে যাবে।

নিয়ামতপুর, পোরশা ও সাপাহার উপজেলা ধান ও আম উৎপাদনে সমৃদ্ধ। এখানকার আম দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশে রপ্তানির সম্ভাবনা রাখলেও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে কৃষকরা কাঙ্ক্ষিত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। পাশাপাশি তিন উপজেলায় প্রায় ৭০ হাজার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষ বসবাস করেন। তাদের জীবনমান উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন বলে মনে করেন স্থানীয়রা। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, মন্ত্রিসভায় স্থান পেলে নওগাঁ-১ আসনের দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত ঘাটতি দূর হবে এবং বাংলাদেশের কৃষি, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ খাতে দৃশ্যমান উন্নয়ন হবে।