এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের বিশ্লেষণ
তারেক রহমানের হাত ধরে নতুন ভূরাজনীতির পথে বাংলাদেশ
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয় শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার। সেই ঘটনার ১৮ মাস পর অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ শেষে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত হয়েছে নতুন সরকার।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ফলাফল সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম অস্থির সময়ের পর জনগণের স্পষ্ট রায়। ২০২৪ সালে বিক্ষোভ দমনে ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনার পর দেশজুড়ে ক্ষোভ দানা বাঁধে, যা শেষ পর্যন্ত সরকার পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে চূড়ান্ত রূপ নেয়।

বাংলাদেশের ইতিহাসে দীর্ঘতম সময় ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বর্তমানে দিল্লিতে অবস্থান করছেন। তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-এ অনুপস্থিতিতে বিচার সম্পন্ন হয়েছে এবং মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুক– এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব
তবে তাকে প্রত্যর্পণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতের সরকার। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের এ অবস্থান দুই দেশের সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, এই নির্বাচনের ফলাফল শুধু ক্ষমতার পালাবদল নয়; এটি দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে জনমতের প্রতিফলন। শেখ হাসিনার আমলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকলেও বিরোধী দমন, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগ নিয়ে বিতর্ক ছিল।
কূটনৈতিক ক্ষেত্রে তার সরকারের ভারতমুখী অবস্থান স্পষ্ট ছিল। ১৫ বছরে নয়াদিল্লিতে একাধিক দ্বিপাক্ষিক সফর এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার করা হলেও তিস্তা চুক্তির মতো ইস্যু অমীমাংসিত থেকে যায়। সীমান্ত হত্যা, জ্বালানি নির্ভরতা ও অবকাঠামো প্রকল্পের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
ক্ষমতায় ফেরার পর তারেক রহমান বলেছেন, “নট দিল্লি, নট পিণ্ডি—বাংলাদেশ সবার আগে।” বিশ্লেষকদের মতে, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা এখন নতুন সরকারের বড় কূটনৈতিক পরীক্ষা।
শেখ হাসিনার বিদায়ের পর অন্তর্বর্তী সরকার ইসলামাবাদের সঙ্গে সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করে। সরাসরি ফ্লাইট চালু, মন্ত্রী পর্যায়ের সফর এবং বাণিজ্য বৃদ্ধি—এসব পদক্ষেপ আঞ্চলিক কূটনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে।
দিল্লিভিত্তিক বিশ্লেষক স্মৃতি পট্টনায়ক সম্প্রতি মন্তব্য করেন, একদিকে অতিরিক্ত ভারতনির্ভরতা যেমন ঝুঁকিপূর্ণ, তেমনি হঠাৎ বিপরীতমুখী ঝোঁকও ভারসাম্যহীনতা তৈরি করতে পারে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের রায় দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে নতুন বাস্তবতা সামনে এনেছে। বাংলাদেশ এখন ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও ভারসাম্যপূর্ণ সম্পৃক্ততা বাড়াতে পারে। পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণও সেই প্রক্রিয়ার অংশ হতে পারে।
বিশ্লেষকদের অভিমত, নতুন নেতৃত্বের সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে—একক নির্ভরতা এড়িয়ে বহুমাত্রিক কূটনীতি গড়ে তোলা এবং জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় আরও আত্মবিশ্বাসী ও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারে।

