প্রধানমন্ত্রীর আগমন: ইটের সলিংয়ের উপরে পীচ দিয়ে ‘রেডিমেড পাকারাস্তা’

দেশজুড়ে
প্রধানমন্ত্রীর আগমন: ইটের সলিংয়ের উপরে পীচ দিয়ে ‘রেডিমেড পাকারাস্তা’
২০ এপ্রিল ২০২৬

আগামী ২৭ তারিখে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যশোরে সম্ভাব্য আগমনকে কেন্দ্র করে শহর সাজানোর নামে চলছে লুটপাটের মহোৎসব। জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় তড়িঘড়ি করে শহর গোছানোর দোহাই দিয়ে সরকারের কোটি কোটি টাকা লোপাটের নতুন ফন্দি এঁটেছে দুর্নীতিবাজ কিছু অসাধু চক্র।

শহরের শংকরপুর এলাকায় গতকাল গভীর রাতে ইটের সলিংয়ের ওপর কোনো প্রকার সংস্কার ছাড়াই সরাসরি পিচ ঢেলে রাস্তা তৈরির এক নজিরবিহীন ‘শুভঙ্করের ফাঁকি’র ঘটনা উন্মোচিত হয়েছে।

অভিযোগ, জামায়াত উঠেছে ঘরোনার জেলা প্রশাসক আশেক হাসান সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে ২৫ তারিখের মধ্যে কাজ শেষ করার জন্য ‘বাজেট নিয়ে চিন্তা না করার’ মৌখিক অভয় দিয়েছেন। এমনকি টাকা সরাসরি ‘তারেক রহমানের দপ্তর’ থেকে আসার প্রলোভন দেখিয়ে ঠিকাদারদের ‘হাত খুলে’ খরচ করার লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের এমন প্রশ্রয়ে এখন দিন-দুপুরে নয়, বরং গভীর রাতের আঁধারে জঘন্যতম অনিয়মে মেতেছে। শংকরপুর এলাকার সেই রাস্তার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় তোলপাড়।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

শহর সাজানোর নামে শংকরপুর এলাকায় পুরনো ভাঙাচোরা ইটের সলিংয়ের ওপর কোনো বালি বা খোয়া না ফেলে সরাসরি পিচ ঢালাই করা হচ্ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, এই রাস্তা এক সপ্তাহও টিকবে না। স্রেফ তারেক রহমানের গাড়িবহর যাওয়ার জন্য চোখের পলকে কোটি টাকার বাজেট পকেটে ভরতে এই নাটক সাজানো হয়েছে। প্রশাসনের প্রত্যক্ষ মদদ ছাড়া এমন দুঃসাহসিক অনিয়ম সম্ভব নয় বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

সূত্র বলছে, জেলা প্রশাসনের বিশেষ মিটিংয়ে শহর গোছানোর জন্য বরাদ্দ বা বাজেটের সীমাবদ্ধতা তুলে দেওয়া হয়েছে। অথচ কারিগরি মান বজায় রেখে কাজ হচ্ছে কি না, তা তদারকির কোনো বালাই নেই। মিটিংয়ে সরাসরি ‘ইটের ওপর পিচ’ দেওয়ার কথা না বললেও, ‘যেভাবে হোক কাজ শেষ করো’—এই নির্দেশের সুযোগ নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তর নিজেদের মত করে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ‘ম্যানেজ’ করে জনভোগান্তি বাড়িয়ে দিচ্ছে। এই পৈশাচিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে যশোরের সাধারণ মানুষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সোচ্চার হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের মতো বড় নেতার আগমনকে পুঁজি করে যারা এমন লঙ্কাকাণ্ড ঘটাচ্ছে, তারা মূলত সরকার ও দল—উভয়কেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে। ইটের সলিংয়ে পিচ ঢালাইয়ের এই ‘চমকপ্রদ’ উন্নয়ন আসলে দীর্ঘমেয়াদী জনদুর্ভোগের নামান্তর। এই অপরিপক্ব ও লোভী চক্রের দুর্নীতির দায় দিন শেষে সাধারণ মানুষকেই বইতে হবে।

যশোরের মাটিতে এমন পুকুরচুরি চলতে দেওয়া যায় না। প্রশাসনের উচিত এখনই এই ঠিকাদারি চক্রকে কালো তালিকাভুক্ত করা এবং তদন্তের মাধ্যমে জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা।