ঢাকায় মশা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার ইতিহাস বেশ দীর্ঘ। দুই সিটি কর্পোরেশনের বাজেট বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২০১৬-১৭ অর্থবছর থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত বিগত ১০ বছরে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন মশা নিয়ন্ত্রণে ব্যয় করেছে ৬৮৮.৩৯ কোটি টাকা। অন্যদিকে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন ব্যয় করেছে ৩২৩.৬৩ কোটি টাকা। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরেও ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন মশা নিয়ন্ত্রণের জন্য ১৮৭.৭৫ কোটি টাকা এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন ৫৩.৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটির জরিপে দেখা গেছে, ৭৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৬৩টিতে এডিস মশার লার্ভার ঘনত্ব নির্ধারিত সূচকের চেয়ে অনেক বেশি, যার মধ্যে ২৮টি ওয়ার্ড উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ। বছরের প্রথম ছয় মাসেই ডেঙ্গু আক্রান্ত প্রায় ৪ হাজার।
কীটতত্ত্ববিদ ও নগর পরিকল্পনাবিদরা সতর্ক করেছেন যে, শুধু কেমিক্যাল ফগিং না করে দ্রুত বিজ্ঞানভিত্তিক ও সমন্বিত পরিকল্পনা না নিলে পরিস্থিতি মহামারি রূপ নেবে
এত বিপুল অর্থ ব্যয়, নানা কর্মসূচি এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার সত্ত্বেও বছরজুড়ে মশার উৎপাত নিয়ন্ত্রণে আসেনি। মশা মারতে বিভিন্ন সময়ে অদ্ভুত সব থেরাপি ব্যবহার করা হয়েছে। মশা শনাক্ত করতে ড্রোন ওড়ানো হয়েছে। জলাশয়ে ছাড়া হয়েছে ব্যাঙ, হাঁস, তেলাপিয়া ও গাপ্পি মাছ।
কিন্তু ড্রোনের ওড়াউড়ি বা ব্যাঙের ডাক— কোনো কিছুতেই ঢাকার মশার বংশবিস্তার ঠেকাতে পারেনি।
রাজধানীর বাসাবো এলাকার বাসিন্দা খোরশেদ আলম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দিনদিন ঢাকায় ডেঙ্গু রোগী বাড়ছে। কিন্তু মশা নিয়ন্ত্রণে সিটি কর্পোরেশনের লোকজনকে নিয়মিত দেখা যায় না।
মাঝে মাঝে তারা এলাকায় এসে ওষুধ স্প্রে করলেও তা নিয়মিত নয়। আমাদের পরিচিত অনেকেই ইতোমধ্যে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে। আমরা আমাদের বাড়িঘর পরিষ্কার রাখছি, কিন্তু সিটি কর্পোরেশনের কার্যকর পদক্ষেপ চোখেই পড়ছে না।