কায়রোতে চালু আফ্রিকার প্রথম ড্রাইভারবিহীন মনোরেল

কায়রোতে চালু আফ্রিকার প্রথম ড্রাইভারবিহীন মনোরেল
নিউজ ডেস্ক
১৬ জুন ২০২৬

মিশরের ঘনবসতিপূর্ণ মহানগরী কায়রো তার প্রাচীন ইতিহাসের জন্য বিখ্যাত। কিন্তু এর ট্রাফিক জ্যাম এতটাই ভয়ানক যে মিশর সরকার মরুভূমিতে একেবারে নতুন একটি শহর গড়ে তুলেছে যাতে রাজধানীর ওপর চাপ কিছুটা কমানো যায়। নতুন শহরে যোগ করা হয়েছে অত্যাধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা।

মিশরের রাজধানী কায়রোতে যাত্রীসেবায় চালু হয়েছে আফ্রিকার প্রথম সম্পূর্ণ চালকবিহীন মনোরেল নেটওয়ার্ক। ‘কায়রো মনোরেল’ নামে পরিচিত এই আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থা গত মাসে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হলেও প্রকল্পের কিছু কাজ এখনও চলমান রয়েছে।

সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন হলে ১০০ দশমিক ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই নেটওয়ার্ক বিশ্বের সবচেয়ে বড় মনোরেল ব্যবস্থার স্বীকৃতি পেতে পারে। বর্তমানে এ রেকর্ড চীনের চংকিং মনোরেলের দখলে, যার দৈর্ঘ্য ৯৮ দশমিক ৫ কিলোমিটার।

কায়রো মনোরেল প্রকল্পের প্রথম অংশ ‘ইস্ট নাইল রুট’ ইতোমধ্যে চালু হয়েছে। ৫৬ দশমিক ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই লাইন কায়রো আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম থেকে নতুন প্রশাসনিক রাজধানী পর্যন্ত বিস্তৃত। অপরদিকে ৪৩ দশমিক ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘ওয়েস্ট নাইল রুট’ এখনও নির্মাণাধীন এবং এটি ৬ অক্টোবর সিটি থেকে গিজা পর্যন্ত সংযোগ দেবে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

প্রকল্পটি পুরোপুরি চালু হলে প্রতিদিন প্রায় পাঁচ লাখ যাত্রী এই নেটওয়ার্ক ব্যবহার করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। উদ্বোধনের পর প্রথম তিন দিন বিনামূল্যে সেবা দেওয়া হয়। বর্তমানে চারটি ভাড়া জোনে বিভক্ত এই ব্যবস্থায় পুরো রুটে একমুখী যাত্রার ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৮০ মিশরীয় পাউন্ড।

কায়রোর বিদ্যমান মেট্রো নেটওয়ার্কের ওপর বাড়তি চাপ কমাতে ২০১৯ সালে মনোরেল প্রকল্প হাতে নেয় মিশর সরকার। প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পে নেতৃত্ব দিচ্ছে ফরাসি প্রকৌশল প্রতিষ্ঠান Alstom। তাদের সঙ্গে কাজ করছে মিশরের অরাসকম কনস্ট্রাকশন ও আরব কন্ট্রাক্টরস।

প্রযুক্তিগতভাবে অত্যাধুনিক এই মনোরেলে রয়েছে ৬৮টি ট্রেন। সর্বোচ্চ ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার গতিতে চলতে সক্ষম ট্রেনগুলো প্রতি ঘণ্টায় প্রতি দিকে প্রায় ৪৫ হাজার যাত্রী পরিবহন করতে পারবে। পুরো ব্যবস্থাটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচালিত হয়, যেখানে ট্রেন চালানো, থামানো, দরজা নিয়ন্ত্রণ এবং জরুরি প্রতিক্রিয়াসহ সব কার্যক্রম প্রযুক্তিনির্ভর।

তবে প্রকল্পটি নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। নির্ধারিত সময়ের তুলনায় বিলম্বে চালু হওয়া এবং অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেও বিপুল ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেক বিশ্লেষক। সমালোচকদের মতে, দেশের ক্রমবর্ধমান ঋণ পরিস্থিতির মধ্যে এ ধরনের বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্পের কার্যকারিতা দীর্ঘমেয়াদে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

তবুও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দাবি, কায়রো মনোরেল শুধু মিশরের পরিবহন ব্যবস্থার আধুনিকীকরণই নয়, বরং আফ্রিকার দ্রুত নগরায়িত শহরগুলোর জন্য একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।