লোডশেডিংয়ে কী হতে পারে বিদ্যুতের বিকল্প?

লোডশেডিংয়ে কী হতে পারে বিদ্যুতের বিকল্প?
নিউজ ডেস্ক
২ জুলাই ২০২৬

লোডশেডিং ও বিদ্যুতের ঘাটতি দেশের জনজীবন, শিল্প-কারখানা এবং অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। বিদ্যুতের চাহিদা ক্রমাগত বাড়লেও প্রচলিত জ্বালানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা সংকটকে আরও জটিল করে তুলছে। এ পরিস্থিতিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও বিকল্প শক্তির উৎসকে ভবিষ্যতের টেকসই সমাধান হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

সৌরবিদ্যুৎ সবচেয়ে সম্ভাবনাময়

বাংলাদেশে বছরে প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ দিন পর্যাপ্ত সূর্যালোক পাওয়া যায়। ফলে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের বড় সুযোগ রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শহরের ভবনের ছাদ, শিল্পকারখানা এবং গ্রামীণ এলাকায় সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানো গেলে জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ অনেকটাই কমানো সম্ভব।

যদিও সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে প্রাথমিক বিনিয়োগ তুলনামূলক বেশি, তবে রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় কম এবং দীর্ঘমেয়াদে এটি সাশ্রয়ী। বর্তমানে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের লাখো মানুষ সৌরবিদ্যুতের সুবিধা পাচ্ছেন।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

বায়ুশক্তিরও রয়েছে বড় সম্ভাবনা

সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায় বায়ুশক্তি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে অফশোর উইন্ড টারবাইন স্থাপনের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, ডেনমার্কসহ বিভিন্ন দেশে এ প্রযুক্তি সফলভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। বাংলাদেশেও উপকূলীয় অঞ্চলে এ খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে।

পারমাণবিক বিদ্যুৎ

স্বল্প পরিমাণ জ্বালানি থেকে বিপুল বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে পারমাণবিক শক্তির। তবে উচ্চ ব্যয়, প্রযুক্তিগত জটিলতা এবং তেজস্ক্রিয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কারণে এ খাতে সতর্ক পরিকল্পনা প্রয়োজন।

ভূ-উত্তাপ ও সাগরের তাপশক্তি

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভূ-উত্তাপ (জিওথার্মাল) এবং সাগরের তাপমাত্রার পার্থক্য কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে। বাংলাদেশে এসব প্রযুক্তি এখনো ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত না হলেও ভবিষ্যতে গবেষণা ও বিনিয়োগের মাধ্যমে সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

এখন কী করা প্রয়োজন

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় শুধু নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণই যথেষ্ট নয়। সৌরবিদ্যুৎ, বায়ুশক্তিসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার দ্রুত বাড়াতে হবে। পাশাপাশি ভবনের ছাদে সোলার প্যানেল স্থাপনে উৎসাহ, উপকূলীয় এলাকায় উইন্ড ফার্ম নির্মাণ এবং আধুনিক প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন।

টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থার দিকে অগ্রসর হতে পারলে ভবিষ্যতে লোডশেডিং কমানোর পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদনও সম্ভব হবে।