হরমুজে হামলা থামলেই ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র: রুবিও

হরমুজে হামলা থামলেই ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র: রুবিও
২০ জুলাই ২০২৬

হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বন্ধ করলে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সমাধানের পথ এখনও খোলা রয়েছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তবে এ জন্য তেহরানকে বাস্তবিক অর্থেই তার আচরণে পরিবর্তন আনতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রোববার (১৯ জুলাই) স্থানীয় সময় রাতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রুবিও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার বিরোধী নয়। তবে যেকোনো সমঝোতা হতে হবে কার্যকর এবং এমন, যা ইরান বাস্তবে মেনে চলবে।

তিনি বলেন, “চুক্তিটি বাস্তবসম্মত হতে হবে এবং এমন হতে হবে, যা তারা বাস্তবে কার্যকর করতে প্রস্তুত থাকবে।”

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

রুবিওর দাবি, এক সপ্তাহ আগে ইরানের হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখা এবং বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বন্ধের ঘোষণা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার পরিবর্তে তেহরান তিনটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে।

তিনি বলেন, “তাদের আচরণ বদলাতে হবে। তাহলেই আমাদের আচরণও বদলাবে।”

ইরানের অভ্যন্তরে মতভেদের দাবি

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন, বর্তমানে ইরানের ভেতরে দুটি ভিন্ন অবস্থান দেখা যাচ্ছে। একটি পক্ষ যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশের বিরুদ্ধে হামলা চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে, আরেকটি পক্ষ দেশের অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলাকে অগ্রাধিকার দিতে চায়।

রুবিও বলেন, “যদি ইরানের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তন চায় এমন গোষ্ঠী প্রাধান্য পায় এবং আলোচনার দায়িত্ব নেয়, তাহলে সেটি অত্যন্ত ইতিবাচক অগ্রগতি হবে।”

অর্থনীতি নিয়ে তেহরানের সমালোচনা

ইরানের অর্থনৈতিক সংকটের জন্য দেশটির নেতৃত্বকে দায়ী করে রুবিও অভিযোগ করেন, নিষেধাজ্ঞা শিথিল বা তেল বিক্রির মাধ্যমে অর্জিত অর্থের বড় অংশ তেহরান তাদের মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর পেছনে ব্যয় করছে।

তার মতে, ওই অর্থ দেশের জনগণের কল্যাণ ও উন্নয়নমূলক কাজে ব্যয় করা উচিত ছিল।

জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকার দাবি

হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র কাজ করছে বলেও দাবি করেন রুবিও।

তিনি বলেন, “মূলত বিশ্বের পক্ষ থেকেই আমরা এসব জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছি। বর্তমানে এই দায়িত্ব কার্যত যুক্তরাষ্ট্রই পালন করছে।”

রুবিও জানান, এ কারণেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চান, বিশ্বের অন্যান্য দেশও এ নিরাপত্তা ব্যবস্থার ব্যয় বহনে আর্থিকভাবে অংশগ্রহণ করুক।

তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ কোনো একক দেশের নিয়ন্ত্রণে থাকা উচিত কি না, সে বিষয়ে বিশ্বের দেশগুলোকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তার দাবি, এমন পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক আইন ও প্রতিষ্ঠিত নিয়মের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

তবে রুবিওর এসব বক্তব্য ও অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ইরানের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।