আমতলীতে যৌতুক দিতে অস্বীকার করায় স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ
বরগুনার আমতলীতে ৫০ হাজার টাকা যৌতুক দিতে অস্বীকৃতি জানানোর জেরে দুই সন্তানের জননী সানজিদা আক্তার (২৫) নামে এক গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী উজ্জ্বল তালুকদারের বিরুদ্ধে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে উজ্জ্বলের দাবি, পারিবারিক বিরোধ ও কারও প্ররোচনায় তার স্ত্রী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
গত মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দিবাগত রাতে আমতলী উপজেলার গেরাবুনিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার সকালে পুলিশ সানজিদার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
ময়নাতদন্ত শেষে বৃহস্পতিবার বিকেলে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়।
নিহত সানজিদার বাবার অভিযোগ, ২০২২ সালে পটুয়াখালী সদর উপজেলার পশুরবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা সানজিদার সঙ্গে আমতলীর গেরাবুনিয়া গ্রামের কাবিল তালুকদারের ছেলে উজ্জ্বল তালুকদারের বিয়ে হয়।
বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে সানজিদাকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করা হতো বলে অভিযোগ করেন তার বাবা আবু বকর তালুকদার।
তিনি বলেন, গত সপ্তাহে ব্যবসার জন্য উজ্জ্বল তার স্ত্রীকে বাবার বাড়ি থেকে ৫০ হাজার টাকা এনে দিতে বলেন। সানজিদা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ শুরু হয়।
নিহতের বাবার ভাষ্য, মঙ্গলবার রাতে যৌতুকের টাকা নিয়ে তাদের মধ্যে আবারও ঝগড়া হয়। পরে উজ্জ্বল সানজিদাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে সাজাতে তার গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখেন।
তবে এ অভিযোগের সত্যতা এখনো তদন্তে নিশ্চিত হয়নি।
মৃত্যুর খবর জানাতে বিলম্বের অভিযোগ
আবু বকর তালুকদার অভিযোগ করেন, মঙ্গলবার রাতে তার মেয়ে মারা গেলেও বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেল পর্যন্ত তাকে বিষয়টি জানানো হয়নি।
তিনি বলেন, বুধবার বিকেলে ফোন করে জানানো হয়, সানজিদা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। পরে বুধবার রাতে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে আমতলী থানায় নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে। নিহতের বাবা অভিযোগ করেন, তিনি হত্যা মামলা করতে চাইলেও পুলিশ তার অভিযোগ গ্রহণ করেনি।
স্থানীয়দের ভিন্ন দাবি
স্থানীয় কয়েকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তরমুজের ব্যবসায় লোকসানের পর বেশ কিছুদিন ধরে উজ্জ্বল মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন এবং স্ত্রীর সঙ্গে খারাপ আচরণ করতেন।
তাদের দাবি, সানজিদাকে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় তারা দেখেননি। বুধবার সকালে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা মরদেহ মাটিতে পড়ে থাকতে দেখেন।
নিহতের মা মনি আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, তার মেয়ে আগে থেকেই শ্বশুরবাড়িতে নির্যাতনের আশঙ্কার কথা জানাতেন এবং তাকে সেখান থেকে নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করতেন।
তিনি মেয়ের মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত ও ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
স্বামীর দাবি, আত্মহত্যা
তবে যৌতুক দাবি এবং স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সানজিদার স্বামী উজ্জ্বল তালুকদার।
তার দাবি, স্ত্রী স্বভাবগতভাবে জেদি ছিলেন এবং কারও প্ররোচনায় গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
এ বিষয়ে আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসাইন বলেন, ঘটনাটি অপমৃত্যু হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এরপর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


