শিক্ষা বোর্ড যশোর পাসের হার ৬৬.২৭%, নেপথ্যে ইংরেজি ও গণিতের ফল বিপর্যয়

দেশজুড়ে
শিক্ষা বোর্ড  যশোর  পাসের হার ৬৬.২৭%, নেপথ্যে ইংরেজি ও গণিতের ফল বিপর্যয়
যশোর শিক্ষা বোর্ড এসএসসি পরীক্ষায় পাসের হারে এবারও দ্বিতীয় অবস্থান ধরে রেখেছে। তবে গত বছরের তুলনায় এবার বোর্ডটিতে পাসের হার ও জিপিএ-৫ দুটিই কমেছে। চলতি বছর যশোর বোর্ডে পাসের হার ৬৬ দশমিক ২৭ শতাংশ, যা গত বছরের তুলনায় ৭ দশমিক ৪২ শতাংশ কম।
বোর্ড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিশেষ করে ইংরেজি ও গণিতে পাসের হার কমে যাওয়ায় সার্বিক ফলাফলে এর প্রভাব পড়েছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) প্রকাশিত এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে এ চিত্র পাওয়া গেছে। এবার ৭১ দশমিক ৬৩ শতাংশ পাসের হার নিয়ে দেশসেরা হয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। ৬৬ দশমিক ২৭ শতাংশ পাসের হার নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে যশোর বোর্ড।
যশোর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এসএম হোসেন আলী জানান, ২০২৬ সালে এ বোর্ড থেকে মোট ১ লাখ ৩২ হাজার ৯৪০ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৮৮ হাজার ৯৭ জন। পাসের হার ৬৬ দশমিক ২৭ শতাংশ। এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে ১১ হাজার ৪৭৮ জন। তাদের মধ্যে ছাত্রী ৬ হাজার ৩৫১ জন এবং ছাত্র ৫ হাজার ১২৭ জন। পরীক্ষায় ১৫ জন শিক্ষার্থী বহিষ্কার হয়েছে।
গত বছর যশোর বোর্ডে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৫১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ১ লাখ ২ হাজার ৩১৯ জন পাস করেছিল। তখন পাসের হার ছিল ৭৩ দশমিক ৬৯ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১৫ হাজার ৪১০ জন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ৭ দশমিক ৪২ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ৩ হাজার ৯৩২ জন।
বোর্ড কর্তৃপক্ষ বলছে, সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। শিক্ষক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের যথাযথ নজরদারি এবং উত্তরপত্রের যথাযথ মূল্যায়নের ভিত্তিতেই ফলাফল প্রস্তুত করা হয়েছে। পরীক্ষার্থীদের কোনো গ্রেস মার্ক বা বাড়তি সুবিধা দেওয়া হয়নি।
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এসএম হোসেন আলী বলেন, গত বছরের তুলনায় পাসের হার কিছুটা কমলেও এটিই প্রকৃত ফলাফল। উত্তরপত্র মূল্যায়নে কোনো ধরনের অতিমূল্যায়ন বা অবমূল্যায়ন করা হয়নি। তবে ইংরেজি ও গণিতে পাসের হার কমে যাওয়ায় সার্বিক ফলাফলে প্রভাব পড়েছে।
বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এবার ইংরেজিতে পাসের হার ৭১ দশমিক ৮৪ শতাংশ এবং গণিতে ৮৩ দশমিক ৩৪ শতাংশ।
বিজ্ঞানে পাস ৮৬.৮৫ শতাংশ
বিভাগভিত্তিক ফলাফলে এবারও যশোর বোর্ডে সবচেয়ে ভালো করেছে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এ বিভাগে ৩৯ হাজার ১৪৭ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে ৩৪ হাজার ১৭ জন। পাসের হার ৮৬ দশমিক ৮৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১০ হাজার ১৩৬ জন। তাদের মধ্যে ছাত্রী ৫ হাজার ৩২৭ জন এবং ছাত্র ৪ হাজার ৮০৯ জন।
বিজ্ঞানের পর পাসের হারে এগিয়ে রয়েছে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ। এ বিভাগে ১৩ হাজার ১১৭ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে ৯ হাজার ২৪৬ জন। পাসের হার ৭১ দশমিক ৩৩ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৭১ জন। তাদের মধ্যে ছাত্রী ২৩২ জন এবং ছাত্র ১৩৯ জন।
মানবিক বিভাগে ৮০ হাজার ৬৭৬ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে ৪৪ হাজার ৮৩৪ জন। এ বিভাগে পাসের হার ৫৫ দশমিক ৩৯ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯৭১ জন। তাদের মধ্যে ছাত্রী ৭৯২ জন এবং ছাত্র ১৭৯ জন।