ফের এপিজির সঙ্গে ঢাকার চুক্তি
বাড়ছে সন্ত্রাসী কার্যক্রমের ঝুঁকি, নজরদারিতে আসছে অনলাইন লেনদেন ও এনজিও
অর্থপাচার বন্ধ, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফেরত আনা এবং সন্ত্রাসী কার্যক্রমে অর্থায়নের ঝুঁকি কমাতে অনলাইন লেনদেন ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার (এনজিও) কার্যক্রমে নজরদারি বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে এশিয়া প্যাসিফিক গ্রুপ অন মানিলন্ডারিং (এপিজি)–এর সঙ্গে নতুন করে আইনি সহায়তার চুক্তি করেছে বাংলাদেশ।
সরকারের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সময়ের সঙ্গে অর্থপাচারের ঘটনা বাড়ায় এর সঙ্গে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থায়নের ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় অর্থপাচার প্রতিরোধ ও পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে এপিজির সহায়তা নেওয়ার পাশাপাশি বিদ্যমান আইন সংশোধন এবং এনজিওগুলোর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
নতুন ব্যবস্থার আওতায় অনলাইন লেনদেন, ভার্চুয়াল গেমিং, বেটিং এবং ক্রিপ্টোকারেন্সির মতো ঝুঁকিপূর্ণ আর্থিক কর্মকাণ্ডে নজরদারি জোরদার করা হবে। এ ছাড়া পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) জন্য পৃথক স্থায়ী প্রসিকিউশন সেল গঠনের উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, গত দেড় দশকে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থের পরিমাণ ২৮ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। এর বড় অংশ রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় পাচার হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। অর্থপাচারের সম্ভাব্য গন্তব্য হিসেবে ১০টি দেশকে চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট সংস্থার সদস্যদের নিয়ে গঠিত ১১টি দল কাজ করছে।
এ পর্যন্ত অর্থপাচারসংক্রান্ত ১৪২টি মামলার মধ্যে ১৬টির অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে এবং ছয়টি মামলার রায় হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। একই সঙ্গে বিদেশে প্রায় ৭৭ হাজার কোটি টাকার সম্পদ জব্দ করা হয়েছে।
অর্থপাচার প্রতিরোধে গঠিত জাতীয় সমন্বয় কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অর্থপাচারের পরিমাণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সন্ত্রাসী কার্যক্রমে অর্থায়নের ঝুঁকিও বাড়ছে। এই ঝুঁকি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের অংশ হিসেবে এপিজির সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততা আরও বাড়ানো হচ্ছে। এর মাধ্যমে প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কাছ থেকে আইনি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
সরকারের নতুন উদ্যোগের অংশ হিসেবে চলতি বছরের মধ্যেই অর্থপাচার প্রতিরোধে একটি জাতীয় কৌশলপত্র তৈরির কাজ চলছে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ কোম্পানি আইন সংশোধনের বিষয়েও চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।
এনজিও খাতের ওপর নজরদারি বাড়ানোর ক্ষেত্রেও নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এর আওতায় অনলাইন আর্থিক লেনদেন, ভার্চুয়াল গেম, বেটিং ও ক্রিপ্টোকারেন্সিসহ সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।
এ ছাড়া জটিল অর্থপাচারসংক্রান্ত মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সিআইডির অধীনে পৃথক স্থায়ী প্রসিকিউশন সেল গঠনের সুপারিশ করেছে জাতীয় সমন্বয় কমিটি।
অর্থপাচার ও কর ফাঁকি ঠেকাতে নগদ লেনদেন কমিয়ে ক্যাশলেস অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যাওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দেশীয় লেনদেনে বাংলা কিউআর কোডের ব্যবহার আরও বাড়ানোর সুপারিশ করেছে কমিটি।


