২০২৮ শিক্ষাবর্ষের কারিকুলামে ব্যাপক সংস্কার আনছে সরকার: মাহদী আমিন

দেশজুড়ে
২০২৮ শিক্ষাবর্ষের কারিকুলামে ব্যাপক সংস্কার আনছে সরকার: মাহদী আমিন
৩০ আগস্ট ২০২৬

২০২৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে দেশের শিক্ষাক্রমে বড় ধরনের সংস্কার আনার পরিকল্পনা করছে সরকার। মেধার পাশাপাশি নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও আধুনিক দক্ষতাকে শিক্ষার মূল কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করে নতুন শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতা ও ভবিষ্যতের কর্মবাজারের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে ২০২৮ সালের জন্য একটি টেকসই ও যুগোপযোগী শিক্ষাক্রম প্রণয়ন করা হবে। এর প্রস্তুতি হিসেবে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়ে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন, সংযোজন ও বিয়োজন করা হচ্ছে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

শিক্ষায় যুক্ত হচ্ছে এআই ও প্রযুক্তি

মাহদী আমিন জানান, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই শিক্ষার্থীদের চতুর্থ শিল্পবিপ্লব, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার সঙ্গে পরিচিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে চারটি নতুন বই ও বিষয় চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা ও শারীরিক শিক্ষাভিত্তিক ‘স্পোর্টস অ্যান্ড কালচার’ এবং ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ ও ‘টেকনিক্যাল এডুকেশন’ যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নতুন শিক্ষাব্যবস্থায় রোবটিক্স, এআই ও চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রযুক্তির সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।

এসএসসির ফল নিয়ে উপদেষ্টার বক্তব্য

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রসঙ্গে মাহদী আমিন বলেন, অতীতে ফলাফল ভালো দেখাতে কৃত্রিমভাবে জিপিএ-৫ বাড়ানোর প্রবণতা ছিল। এবার কোনো গ্রেস নম্বর দেওয়া হয়নি। ফলে শিক্ষার্থীরা নিরপেক্ষ মূল্যায়নের ভিত্তিতে প্রকৃত ফলাফল পেয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

এসএসসিতে অকৃতকার্য কিংবা শিক্ষা থেকে ঝরে পড়া তরুণদের বোঝা হিসেবে না দেখে তাদের দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

এ জন্য টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (টিটিসি), স্বল্পমেয়াদি কারিগরি ও ভোকেশনাল প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের কর্মসংস্থানের উপযোগী করে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রয়োজন হলে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থাও করা হবে।

জেলা পর্যায়ে কর্মসংস্থান বিনিময় কেন্দ্র

বেকারত্ব কমাতে বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে ‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ’ বা কর্মসংস্থান বিনিময় কেন্দ্র চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এই ব্যবস্থায় চাকরিপ্রার্থীরা নিজেদের দক্ষতা ও যোগ্যতার তথ্য দিয়ে নিবন্ধন করতে পারবেন। অন্যদিকে নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো প্রয়োজনীয় দক্ষতার কর্মী খুঁজে নিতে পারবে।

প্রথমে বিভাগীয় পর্যায়ে কার্যক্রম শুরু করে পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি জেলায় এটি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে সুবিধাবঞ্চিত ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়েছেন উপদেষ্টা।

শিক্ষকদের হাতে যাবে ট্যাব

শিক্ষকদের ডিজিটাল দক্ষতা বাড়াতে ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন মাহদী আমিন।

পর্যায়ক্রমে প্রাথমিক থেকে শুরু করে সব স্তরের শিক্ষকদের হাতে ডিজিটাল ট্যাব তুলে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর পাশাপাশি শিক্ষক প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং পেশাটিকে আরও আকর্ষণীয় করার বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়-শিল্প যৌথ গবেষণায় গুরুত্ব

বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার পরিবেশ উন্নত করা এবং আন্তর্জাতিক র‍্যাংকিংয়ে অবস্থান শক্তিশালী করতে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ গবেষণার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

দেশীয় শিল্পের বাস্তব সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতের যৌথভাবে গবেষণা পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে বিদেশে থাকা বাংলাদেশি গবেষক ও শিক্ষকদের দেশে ফিরিয়ে এনে ‘ব্রেন ড্রেন’কে ‘ব্রেন সার্কুলেশনে’ রূপান্তরের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

গবেষণা খাতে সরকারি বরাদ্দও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা জানান উপদেষ্টা।

গ্রাম-শহরের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিযোগিতা

শহর ও গ্রামের বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সুযোগের বৈষম্য কমাতে জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে।

এর মধ্যে ‘প্রাইমারি স্কুল গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট’ এবং ‘ইনোভেশন ও স্টার্টআপ কম্পিটিশন’ আয়োজনের উদ্যোগ রয়েছে।

মাহদী আমিন বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু সনদনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করা নয়। দক্ষতা, কর্মসংস্থান, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ একটি প্রজন্ম গড়ে তুলতে শিক্ষাব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হচ্ছে।