মহাবিশ্বের নতুন মানচিত্র তৈরি করবে নাসার ‘রোমান’ টেলিস্কোপ

দেশজুড়ে
মহাবিশ্বের নতুন মানচিত্র তৈরি করবে নাসার ‘রোমান’ টেলিস্কোপ
৩০ আগস্ট ২০২৬

মহাবিশ্বের অজানা রহস্য অনুসন্ধান এবং মহাকাশের বিশাল মানচিত্র তৈরির লক্ষ্য নিয়ে আজ রবিবার মহাকাশে যাত্রা শুরু করছে নাসার ‘ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ’। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় অবস্থিত কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে স্পেসএক্সের ফ্যালকন হেভি রকেটের মাধ্যমে এটি উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা রয়েছে।

নাসার এই অত্যাধুনিক টেলিস্কোপকে মহাকাশ গবেষণার নতুন দিগন্ত উন্মোচনকারী প্রযুক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর দৃষ্টিসীমা হাবল স্পেস টেলিস্কোপের তুলনায় ১০০ গুণেরও বেশি। ফলে মহাবিশ্বের বিপুল বিস্তৃত অঞ্চল পর্যবেক্ষণ করে ডার্ক ম্যাটার ও ডার্ক এনার্জির মতো এখনো অমীমাংসিত রহস্য সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করতে পারবে এটি।

১৫ লাখ কিলোমিটার দূরের কক্ষপথে অবস্থান

মার্কিন জ্যোতির্বিজ্ঞানী ন্যান্সি গ্রেস রোমানের নামে টেলিস্কোপটির নামকরণ করা হয়েছে। ৪০০ কোটি ডলারের বেশি ব্যয়ে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে এটি নির্মাণ করা হয়েছে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

উৎক্ষেপণের পর পৃথিবী থেকে প্রায় ১৫ লাখ কিলোমিটার দূরের একটি কক্ষপথে অবস্থান নেবে রোমান টেলিস্কোপ। নির্ধারিত অবস্থানে পৌঁছাতে এর প্রায় ১০০ দিন সময় লাগতে পারে।

মহাকাশে পৌঁছানোর পর জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপসহ অন্যান্য পর্যবেক্ষণকেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে রোমান।

খুঁজবে হাজারো নতুন গ্রহ

রোমান স্পেস টেলিস্কোপের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য সৌরজগতের বাইরের গ্রহ বা এক্সোপ্ল্যানেটের সন্ধান করা। একই সঙ্গে বিপুল সংখ্যক সুপারনোভা পর্যবেক্ষণ করে মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ ও বিবর্তন সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করবে এটি।

বিজ্ঞানীদের ধারণা, মহাবিশ্বের মোট উপাদানের প্রায় ৯৫ শতাংশ ডার্ক ম্যাটার ও ডার্ক এনার্জির সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে এগুলোর প্রকৃতি ও উৎপত্তি এখনো পুরোপুরি জানা যায়নি।

রোমানের ইনফ্রারেড পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা বিজ্ঞানীদের মহাবিশ্বের বহু দূরবর্তী অতীতের আলো শনাক্ত করতে সাহায্য করবে। এর মাধ্যমে কোটি কোটি বছর আগের মহাজাগতিক ঘটনাগুলোর চিত্র ও তথ্য বিশ্লেষণের সুযোগ তৈরি হবে।

প্রতিদিন আসবে বিপুল তথ্য

রোমান টেলিস্কোপ প্রতিদিন প্রায় ১ দশমিক ৩ টেরাবাইট তথ্য পৃথিবীতে পাঠাতে সক্ষম হবে বলে জানানো হয়েছে। এসব তথ্য বিজ্ঞানীদের গবেষণার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জন্যও উন্মুক্ত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

বিজ্ঞানীদের আশা, রোমানের বিস্তৃত পর্যবেক্ষণ মহাবিশ্বের গঠন, ডার্ক ম্যাটার, ডার্ক এনার্জি এবং সৌরজগতের বাইরের গ্রহ সম্পর্কে মানুষের বর্তমান ধারণাকে আরও সমৃদ্ধ করবে।