সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক

আমানত ফেরতের আবেদনে সাড়া, প্রথম দিনেই ১৮ হাজার গ্রাহক

আমানত ফেরতের আবেদনে সাড়া, প্রথম দিনেই ১৮ হাজার গ্রাহক
২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা কাটিয়ে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানত ফেরতের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় স্বস্তি ফিরছে গ্রাহকদের মধ্যে। ব্যাংকটির বিভিন্ন শাখায় আমানতের অর্থ উত্তোলনের আবেদন নেওয়া শুরু হয়েছে। প্রথম দিনেই প্রায় ১৮ হাজার গ্রাহক আবেদন করেছেন। এসব আবেদনে মোট প্রায় ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা উত্তোলনের চাহিদা জানানো হয়েছে।

এর মধ্যে এককালীন পুরো আমানত তুলে নেওয়ার জন্য আবেদন করেছেন ২ হাজার ৩৬৭ জন। তাদের আবেদনে ফেরত চাওয়া হয়েছে প্রায় ২৪৪ কোটি টাকা।

ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গ্রাহকদের আবেদনের ভিত্তিতে অর্থের প্রয়োজনীয়তা নিরূপণ করা হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে আমানতের অর্থ ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। আবেদন যাচাই ও অন্যান্য প্রক্রিয়া শেষে আগামী ৭ সেপ্টেম্বর থেকে অর্থ পরিশোধ শুরু করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

অর্থ ফেরতের আবেদন নেওয়া শুরু হওয়ার পর গত ১ সেপ্টেম্বর থেকেই ব্যাংকের বিভিন্ন শাখায় গ্রাহকদের উপস্থিতি দেখা যায়। নির্ধারিত ফরমে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে নিজেদের হিসাব থেকে কত টাকা তুলতে চান, তা উল্লেখ করে আবেদন জমা দেন তারা।

দীর্ঘদিন ধরে অর্থ উত্তোলনে নানা সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হওয়া গ্রাহকদের অনেকেই আমানত ফেরতের উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। এক আমানতকারী বলেন, প্রায় ১২ বছর ধরে তিনি ব্যাংকটিতে টাকা জমা রেখেছেন। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী অর্থ ফেরতের আশ্বাস পাওয়ায় তিনি সন্তুষ্ট। ভবিষ্যতে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ব্যাংকটি আরও শক্তিশালী ও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এদিকে প্রথম দিনে বড় ধরনের ভিড়ের আশঙ্কা থাকলেও অধিকাংশ শাখায় তেমন চাপ দেখা যায়নি। সকাল থেকেই প্রধান কার্যালয়ের কর্মকর্তারা বিভিন্ন শাখার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। আবেদন গ্রহণ, তথ্য যাচাই ও গ্রাহকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার বিষয়গুলোও তারা তদারকি করেন।

ব্যাংক কর্মকর্তারা জানান, স্বাভাবিক লেনদেনের সুযোগ দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের পর গ্রাহকদের মধ্যে ব্যাংকটির প্রতি আস্থা কিছুটা বেড়েছে। সেই আস্থা ধরে রাখতে নির্ধারিত নিয়মে আবেদন গ্রহণ ও সময়মতো অর্থ ফেরতের প্রস্তুতি চলছে।

কর্মকর্তারা আরও জানান, গ্রাহকদের কাছ থেকে পাওয়া আবেদনগুলো প্রক্রিয়াজাত করার পর ৭ সেপ্টেম্বর থেকে অর্থ পরিশোধ শুরু হবে। কোন গ্রাহক কখন অর্থ পাবেন, তা পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্টদের জানানো হবে।

অন্যদিকে, গ্রাহকদের আবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় অর্থের পরিমাণ নির্ধারণ করবে ব্যাংকগুলো। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, চাহিদার পরিমাণ অনুযায়ী অর্থের জোগান নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রয়োজন হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আর্থিক সহায়তাও দেবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, গ্রাহকদের আবেদনের মাধ্যমে যে পরিমাণ অর্থের চাহিদা তৈরি হবে, সেই হিসাব অনুযায়ী জোগানের পরিকল্পনা করা হবে। আমানতকারীদের স্বার্থ ও অর্থের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ব্যাংকগুলোকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, আমানত ফেরতের প্রক্রিয়া বাস্তবে কার্যকর হলে দীর্ঘদিনের উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা অনেকটাই কমবে। নির্ধারিত সময়ে অর্থ ফেরত দেওয়া শুরু হলে ব্যাংকটির প্রতি গ্রাহকদের আস্থাও ধীরে ধীরে পুনর্গঠিত হতে পারে।