হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে খাদ্যতালিকায় রাখুন এই খাবার

স্বাস্থ্য
হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে খাদ্যতালিকায় রাখুন এই খাবার
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিশ্বজুড়ে মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হৃদরোগ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজ বা হৃদযন্ত্র ও রক্তনালির রোগ বিশ্বব্যাপী মৃত্যুর প্রধান কারণ। ২০২২ সালে আনুমানিক ১ কোটি ৯৮ লাখ মানুষ এ ধরনের রোগে মারা যান, যা ওই বছর বিশ্বব্যাপী মোট মৃত্যুর প্রায় ৩২ শতাংশ। এসব মৃত্যুর প্রায় ৮৫ শতাংশের সঙ্গে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোক জড়িত ছিল।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন এনে হৃদরোগের ঝুঁকি কমানো সম্ভব। এর মধ্যে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস অন্যতম। বিশেষ করে নিয়মিত ফল ও সবজি খাওয়া হৃদস্বাস্থ্য ভালো রাখার সহজ উপায়গুলোর একটি।

সম্প্রতি কার্ডিওভাসকুলার ইনোভেশন অ্যান্ড অ্যাপ্লিকেশন জার্নালে প্রকাশিত একটি পর্যালোচনামূলক গবেষণায় ফল ও সবজি খাওয়ার সঙ্গে হৃদস্বাস্থ্যের সম্পর্ক নিয়ে আগের বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক গবেষণার তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

গবেষণায় যা পাওয়া গেছে

গবেষণায় দেখা গেছে, যারা বেশি পরিমাণে ফল ও সবজি খান, তাদের হৃদরোগ, হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক এবং উচ্চ রক্তচাপের মতো কার্ডিওভাসকুলার রোগের ঝুঁকি তুলনামূলক কম হতে পারে।

গবেষকদের পর্যালোচনায় আরও উঠে এসেছে, ফল ও সবজি একাধিক উপায়ে হৃদযন্ত্রের সুরক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে। অর্থাৎ, এসব খাবার শুধু একটি নির্দিষ্ট ঝুঁকি কমায় না; বরং রক্তচাপ, কোলেস্টেরল, প্রদাহসহ হৃদরোগের সঙ্গে সম্পর্কিত একাধিক বিষয় নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে।

যেভাবে হৃদযন্ত্রের উপকার করে ফল ও সবজি

খাদ্যতন্তু বা ফাইবার: ফল ও সবজিতে থাকা ফাইবার শরীরে খারাপ কোলেস্টেরল বা এলডিএল শোষণ কমাতে সহায়তা করতে পারে। একই সঙ্গে এটি হজমশক্তি ভালো রাখা এবং স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখতেও ভূমিকা রাখে।

পটাশিয়াম: অনেক ফল ও সবজিতে প্রচুর পটাশিয়াম থাকে। এটি শরীরে সোডিয়ামের ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে।

অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট: ভিটামিন সি ও ই, ফ্ল্যাভোনয়েড এবং ক্যারোটিনয়েডের মতো উদ্ভিদজাত উপাদান শরীরকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেসজনিত ক্ষতি থেকে সুরক্ষা দিতে পারে। এর ফলে রক্তনালির স্বাস্থ্যও উপকৃত হতে পারে।

প্রদাহ কমাতে সহায়ক: দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ হৃদরোগের সঙ্গে সম্পর্কিত। ফল ও সবজিতে থাকা বিভিন্ন পুষ্টি ও উদ্ভিদজাত উপাদান শরীরের প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে।

প্রাকৃতিক নাইট্রেট: পালং শাকের মতো সবুজ শাকসবজি এবং বিটরুটে প্রাকৃতিক নাইট্রেট থাকে। এটি রক্তনালির কার্যকারিতা ও স্বাস্থ্যকর রক্তচাপ বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে।

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও উপকারী

ফল ও সবজিতে থাকা পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়ামসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান রক্তনালির স্বাভাবিক কার্যকারিতা ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবারের পরিবর্তে বেশি ফল ও সবজি খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুললে দীর্ঘমেয়াদে রক্তচাপ স্বাস্থ্যকর পর্যায়ে রাখতে সহায়তা করতে পারে।

কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা

ফল ও সবজিনির্ভর স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক হতে পারে। আপেল, কমলা, নাশপাতি এবং ডালজাতীয় খাবারে থাকা দ্রবণীয় ফাইবার খারাপ কোলেস্টেরল বা এলডিএল কমাতে সাহায্য করতে পারে।

অন্যদিকে, প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং অতিরিক্ত স্যাচুরেটেড ফ্যাটযুক্ত খাবারের পরিবর্তে তাজা ফল ও সবজি খাওয়ার অভ্যাস হৃদস্বাস্থ্যের জন্য আরও উপকারী হতে পারে।

তবে শুধু ফল ও সবজি খেলেই হৃদরোগের ঝুঁকি পুরোপুরি দূর হয় না। বিশেষজ্ঞরা স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে পূর্ণ শস্য, বাদাম, ডালজাতীয় খাবার ও স্বাস্থ্যকর চর্বি গ্রহণের পাশাপাশি নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম, পর্যাপ্ত ঘুম এবং ধূমপান এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন।