প্রকল্প বাস্তবায়নে সময়সীমা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতের নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

জাতীয়
প্রকল্প বাস্তবায়নে সময়সীমা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতের নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চলমান ও প্রস্তাবিত সব প্রকল্প নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রতিটি প্রকল্পে সময়ভিত্তিক লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় বাস্তবায়নাধীন চলমান এবং ‘সবুজ পাতায়’ অন্তর্ভুক্ত অননুমোদিত প্রকল্পগুলোর পর্যালোচনা সভায় এসব নির্দেশনা দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সভায় তিনি সভাপতিত্ব করেন।

সভায় প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি বাড়ানো, দ্রুত কাজ শেষ করা এবং পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে অহেতুক বিলম্ব কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিলম্ব হলে প্রকল্পের ব্যয় সরাসরি বেড়ে যায়। তাই প্রতিটি প্রকল্পের জন্য সময়ভিত্তিক লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে হবে। একই সঙ্গে নতুন ও সংশোধিত প্রকল্পের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) দ্রুত প্রণয়নের নির্দেশ দেন তিনি।

কারাগার-সংক্রান্ত প্রকল্পের বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, নিরাপত্তা ও যাতায়াতের বিভিন্ন বিধিনিষেধের কারণে এসব প্রকল্পের স্বাভাবিক গতি কিছুটা ব্যাহত হওয়া যৌক্তিক। তবে সাধারণ অবকাঠামো বা নির্মাণকাজে কোনো ধরনের বিলম্ব মেনে নেওয়া হবে না। স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) সদর দপ্তর নির্মাণসহ সব সাধারণ অবকাঠামোগত কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দেন তিনি।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের কঠোর প্রয়োগের ওপরও গুরুত্ব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি প্রতি জেলায় ডগ স্কোয়াড গঠন, ডোপ টেস্টের সুবিধা বাড়ানো, হাজতখানা ও মালখানা সংস্কার এবং জেলা পর্যায়ে আধুনিক ফরেনসিক ল্যাব ও ডিজিটাল ফরেনসিক অবকাঠামো স্থাপনের প্রকল্পগুলো নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন।

দেশের গ্রামীণ এলাকার থানাগুলোকে মানসম্মত ‘মডেল থানা’য় রূপান্তরের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট ‘প্রোটোটাইপ ডিজাইন’ অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়। যেসব এলাকায় জমির সংকট রয়েছে, সেখানে দ্রুত ভূমি অধিগ্রহণ করে একটি সমন্বিত প্রকল্প নেওয়ার তাগিদ দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লজিস্টিকস ও যানবাহন সংকট নিরসনেও সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়ে সভায় আলোচনা হয়।

সভায় উপস্থিত পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি সরকারি প্রকল্পের সর্বোচ্চ সুফল নিশ্চিত এবং কাজের দ্বৈততা এড়াতে পৃথক প্রকল্পের পরিবর্তে ‘প্রোগ্রামেটিক বা ক্লাস্টার অ্যাপ্রোচ’ গ্রহণের আহ্বান জানান। সরকারের বর্তমান মেয়াদের মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি নিশ্চিত করতে চলমান প্রকল্পগুলোর পুনর্মূল্যায়ন ও ‘রিস্কোপিং’-এর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

চলতি ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে ‘জনশৃঙ্খলা ও সুরক্ষা’ খাতের উন্নয়নে এডিপিতে মোট ২ হাজার ৬৬২ কোটি ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ২ হাজার ৫৫২ কোটি ৮ লাখ টাকা এবং প্রকল্প ঋণ ও অনুদান ১০৯ কোটি ৯৭ লাখ টাকা।

‘সুরক্ষিত ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ’ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করছে বলে সভায় জানানো হয়। এ লক্ষ্যে বিএনপির ‘নির্বাচনী ইশতেহার ২০২৬’-এর অঙ্গীকারের আলোকে মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ২৬টি প্রতিশ্রুতির ম্যাপিং সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি সরকারের পঞ্চবার্ষিক অর্থনৈতিক সংস্কার ও উন্নয়ন কৌশল (জুলাই ২০২৬-জুন ২০৩১)-এর ‘৩আর স্ট্র্যাটেজি’ অনুসরণ করে আইনশৃঙ্খলা খাতকে আরও সুসংহত করার পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়।

সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, অধীনস্থ ১০টি দপ্তর ও সংস্থার প্রধান এবং সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালকেরা উপস্থিত ছিলেন।