বন্ধ শিল্প চালু করতে ২০ হাজার কোটি টাকার স্কিম, ঋণে সুদ ৭%

বন্ধ শিল্প চালু করতে ২০ হাজার কোটি টাকার স্কিম, ঋণে সুদ ৭%
১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্প ও সেবা খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো পুনরায় চালু করতে ২০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ স্কিম চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ‘বন্ধ শিল্প ও সেবা খাত সহায়ক প্রাক-অর্থায়ন স্কিম’-এর আওতায় ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসব প্রতিষ্ঠানে অর্থায়নের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে।

এ স্কিমের আওতায় গ্রাহক পর্যায়ে ঋণের সুদহার সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ঋণগ্রহীতাদের জন্য রাখা হয়েছে ছয় মাসের গ্রেস পিরিয়ড। অর্থাৎ ঋণ পাওয়ার পর প্রথম ছয় মাস গ্রাহকের কাছ থেকে সুদ আদায় করা যাবে না।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ থেকে এ-সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করা হয়।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

সার্কুলারে বলা হয়েছে, স্কিমটির আওতায় বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ব্যাংকগুলোকে প্রাক-অর্থায়ন দেওয়া হবে। এরপর ব্যাংকগুলো সেই অর্থ ব্যবহার করে বন্ধ শিল্প ও সেবা খাতের প্রতিষ্ঠান পুনরায় চালুর জন্য গ্রাহকদের ঋণ দেবে।

ব্যাংকের জন্য সুদ ৪ শতাংশ

নীতিমালা অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নেওয়া প্রাক-অর্থায়নের বিপরীতে ব্যাংকগুলোকে ৪ শতাংশ হারে সুদ দিতে হবে। তবে প্রাক-অর্থায়ন নেওয়ার পর প্রথম ছয় মাস এই সুদ পরিশোধের প্রয়োজন হবে না।

গ্রেস পিরিয়ড শেষ হওয়ার পর ব্যাংকগুলোকে ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংককে সুদ পরিশোধ করতে হবে। এ সময় প্রথম দুই ত্রৈমাসিকের বকেয়া সুদও পরিশোধ করতে হবে।

অন্যদিকে, স্কিমের আওতায় ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের যে ঋণ দেবে, তার সুদহার সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। গ্রাহকদের ক্ষেত্রেও ঋণ বিতরণের পর প্রথম ছয় মাস সুদ আদায় করা যাবে না। ছয় মাসের গ্রেস পিরিয়ড শেষ হলে সুদ আদায় শুরু হবে। প্রথম দুই ত্রৈমাসিকের বকেয়া সুদও তখন আদায়ের আওতায় থাকবে।

তিন বছরের মধ্যে আবেদন

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, তহবিলের প্রাপ্যতা সাপেক্ষে স্কিমটির মেয়াদকালীন তিন বছরের মধ্যে যেকোনো সময়ে প্রাক-অর্থায়নের জন্য আবেদন করতে পারবে ব্যাংকগুলো।

অর্থাৎ স্কিমের সুবিধা নিতে আগ্রহী ব্যাংকগুলো নির্ধারিত তিন বছরের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে প্রাক-অর্থায়নের আবেদন করতে পারবে। তবে এ ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত তহবিলের প্রাপ্যতা থাকতে হবে।

স্কিমের অর্থ নির্ধারিত কাজে যথাযথভাবে ব্যবহার হচ্ছে কি না, ঋণ আদায়ের পরিস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের তদারকির বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

নীতিমালা অনুযায়ী, ব্যাংকগুলোকে প্রাক-অর্থায়নের অর্থ নির্ধারিত খাতে ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি ঋণের ব্যবহার ও আদায় পরিস্থিতি নিয়মিত তদারক করতে হবে। গ্রেস পিরিয়ড শেষ হওয়ার পর নির্ধারিত নিয়মে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে সুদ পরিশোধের হিসাব নিষ্পত্তি করতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। সার্কুলারে দেওয়া নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে।