সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার ও অপচয় রোধের আহ্বান স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর

জাতীয়
সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার ও অপচয় রোধের আহ্বান স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর

ছবি: সংগৃহীত

১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জনগণের সম্পদের অপচয় রোধ করে সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান।

তিনি বলেছেন, সরকারি কর্মকর্তারা জনগণের সম্পদের কাস্টোডিয়ান। তাই প্রতিটি উন্নয়ন প্রকল্পে দায়িত্বশীলতা, যথাযথ পরিকল্পনা ও কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এলজিইডি ভবনে অধিদপ্তরের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নিয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

মঈন খান বলেন, শুধু কাগজে-কলমে পরিকল্পনা করলেই হবে না, পরিকল্পনার কার্যকর বাস্তবায়নই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। দেশের সম্পদ সীমিত হওয়ায় প্রয়োজন ও সক্ষমতার মধ্যে সমন্বয় করে কম ব্যয়ে সর্বোচ্চ ফল পাওয়ার চেষ্টা করতে হবে। একই সঙ্গে জনগণের সেবা ও মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার উদ্যোগে এলজিইডি দেশের গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে নতুন ধারার সূচনা করেছিল। এর ফলে বাংলাদেশের গ্রামীণ অবকাঠামোর চিত্রে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমানে নেওয়া উন্নয়ন পরিকল্পনার সুফল আগামী ২০ থেকে ৩০ বছরে দেশের মানুষ পাবে বলেও আশা প্রকাশ করেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের গ্রামীণ অবকাঠামো ও জনপদের উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব এলজিইডির কর্মকর্তাদের হাতে। তাই তৃণমূলের মানুষের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দিয়ে সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

সভায় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম গ্রামীণ সড়ক নির্মাণ ও উন্নয়নে ইটের ব্যবহার কমিয়ে ইউনি ব্লক ও সিসি ব্লকের ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।

তিনি বলেন, ৬ থেকে ৯ ফুট প্রশস্ত ছোট সড়কে ইটের পরিবর্তে ইউনি ব্লক ও সিসি ব্লক ব্যবহার করা যেতে পারে। আর ভারী যানবাহন চলাচল করে এমন সড়কে প্রয়োজন অনুযায়ী আরসিসি, কার্পেটিং ও দেশীয় পাথর ব্যবহারে গুরুত্ব দিতে হবে।

নদীতীরবর্তী ও বন্যাপ্রবণ সড়কে মাটির ক্ষয় রোধে ‘বিন্যা ঘাস’ ব্যবহারের নির্দেশনাও দেন প্রতিমন্ত্রী।

এ ছাড়া ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও হাটবাজারসহ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে সৌর প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

মীর শাহে আলম বলেন, এসব প্রতিষ্ঠান অতিরিক্ত সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারলে নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে তা জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব। এতে একদিকে বিদ্যুৎ ব্যয় কমবে, অন্যদিকে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর আয়ও বাড়তে পারে। এ জন্য নিজ নিজ দপ্তরে সোলার প্যানেল স্থাপনে অগ্রাধিকার দিতে কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন তিনি।

আলোচনা সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসেনসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী, এলজিইডির চলমান প্রকল্পগুলোর প্রকল্প পরিচালক ও উপজেলা প্রকৌশলীরা উপস্থিত ছিলেন।