শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দলীয় পক্ষপাতের সুযোগ নেই: ববি হাজ্জাজ

জাতীয়
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দলীয় পক্ষপাতের সুযোগ নেই: ববি হাজ্জাজ

ছবি: সংগৃহীত

২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভেতরে কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে পক্ষপাতমূলক কর্মকাণ্ড না করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেছেন, শিক্ষার্থীদের কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মী হিসেবে নয়, বাংলাদেশের শক্তিশালী ভবিষ্যতের নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে চান।

শনিবার রাজধানীর মোহাম্মদপুর মহিলা কলেজে ‘নজরুল বর্ষ উদযাপন-২০২৬’-এর অংশ হিসেবে আয়োজিত সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ববি হাজ্জাজ বলেন, কলেজের অনেক শিক্ষার্থীর বয়স ১৮ বছর পার হয়েছে। তারা প্রাপ্তবয়স্ক এবং তাদের রাজনৈতিক অধিকার রয়েছে। শিক্ষার্থীরা চাইলে ক্যাম্পাসের বাইরে দলীয় রাজনীতিতে যুক্ত হতে পারে। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভেতরে তাদের পরিচয় শিক্ষার্থী হিসেবেই থাকা উচিত।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

শিক্ষক ও গভর্নিং বডির সদস্যদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তাদের ব্যক্তিগত রাজনৈতিক পরিচয় থাকতেই পারে। তবে সেই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড যেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভেতরে প্রভাব না ফেলে, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীরা রাজনীতি নিয়ে আলোচনা করতে পারে এবং নিজেদের অধিকার সম্পর্কে কথা বলতে পারে। রাজনৈতিক বিষয়ে জানা ও সচেতন থাকা প্রয়োজন। তবে কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে পক্ষপাতমূলক কর্মকাণ্ড শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভেতরে করা উচিত নয়।

তিনি বলেন, ‘আমরা শিক্ষার্থীদের এই দলের বা ওই দলের কর্মী হিসেবে গড়ে তুলতে চাই না। আমরা চাই, তারা বাংলাদেশের শক্তিশালী ভবিষ্যতের নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠুক।’

বিরোধী দলের বিভিন্ন বক্তব্যের সমালোচনা করে ববি হাজ্জাজ বলেন, বিরোধী দল থেকে নানা ধরনের বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে। কেউ কেউ সরকার হেলিকপ্টারে পালিয়ে যাবে বলেও মন্তব্য করছেন। এসব বক্তব্যের উৎস তিনি বুঝতে পারছেন না বলে উল্লেখ করে এ ধরনের কথাবার্তার মাধ্যমে জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি না করার আহ্বান জানান তিনি।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের দাবির বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠানের ভবন বা অন্যান্য প্রয়োজন থাকলে সরকার তা পূরণের চেষ্টা করবে। জাতীয়করণের দাবিও বিবেচনা করা হবে। তবে জাতীয়করণের পর কোনো স্কুল বা কলেজের মান বেড়েছে—এমন উদাহরণ এখন পর্যন্ত দেখা যায়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, এরপরও শিক্ষক বা সংশ্লিষ্টরা জাতীয়করণ চাইলে সেটি গণতান্ত্রিক বিষয়। জনগণ যা চাইবে, সরকার তার সামর্থ্য অনুযায়ী তা দেওয়ার চেষ্টা করবে।

অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য দেন মোহাম্মদপুর মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর ফরহানা ইয়াসমিন। সঞ্চালনা করেন ভারপ্রাপ্ত উপাধ্যক্ষ শেখ ফরিদ হোসেন। সভাপতিত্ব করেন কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি মো. আক্তারুজ্জামান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালী, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সোহেল রহমান এবং মোহাম্মদপুর থানা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. রাজু আহমেদ।

আলোচনা সভায় বক্তারা জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, সাম্য, মানবতা, অসাম্প্রদায়িকতা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে তাঁর প্রতিবাদী চেতনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। নতুন প্রজন্মের মধ্যে নজরুলের সাহিত্য ও আদর্শ ছড়িয়ে দেওয়ার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তারা।

পরে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরস্কার ও সনদ বিতরণ করা হয়।