অপরাধীর কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই, নাশকতার চেষ্টা কঠোর হাতে দমন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর যেকোনো অপচেষ্টা কঠোর হাতে দমন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, অপরাধীর কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই—অপরাধী যে-ই হোক, দল-মত বিবেচনা না করে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সমসাময়িক বিষয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অপরাধীদের বিরুদ্ধে দলমত নির্বিশেষে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। কোনো অপরাধী রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে আইনের আওতার বাইরে থাকতে পারবে না।
রাজধানীর জাসদ কার্যালয়ে সম্প্রতি পুলিশি অভিযান প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, সেখানে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের কিছু সদস্য একত্রিত হয়ে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা করছিলেন। ওই তথ্যের ভিত্তিতেই পুলিশ অভিযান চালায়।
তিনি জানান, অভিযানের পর প্রাথমিকভাবে প্রায় ২৮০ জনকে আটক করা হলেও তাঁদের বেশিরভাগকেই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ২৭ জনকে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে রাখা হয়েছে।
আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে উদ্ধার করা মোবাইল ফোনের ফরেনসিক পরীক্ষা ও অন্যান্য অনুসন্ধানের মাধ্যমে নাশকতায় সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান মন্ত্রী। তাঁর দাবি, কাউকে অযথা হয়রানি করার উদ্দেশ্যে ওই অভিযান চালানো হয়নি।
কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুর ও চাঁদা দাবির অভিযোগ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ক্যান্টনমেন্ট থানার মানিকদী এলাকায় প্রায় ৩৫ কাঠা জমি নিয়ে নিউ গিনি প্রপার্টিজ নামের একটি বিল্ডার গোষ্ঠী ও এক অবসরপ্রাপ্ত ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তার মধ্যে মালিকানা বিরোধ রয়েছে।
তাঁর ভাষ্য, বিরোধপূর্ণ ওই জমিতে রাতের আঁধারে এক পক্ষ দখলের চেষ্টা করলে সেখানে থাকা সালমান মুক্তাদিরের টিনশেড স্টুডিও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
মন্ত্রী জানান, ৯৯৯-এ কল পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় গুলির খোসাসহ কিছু দেশীয় অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়।
সালমান মুক্তাদির ফেসবুক লাইভে বিএনপিকে চাঁদাবাজ দল হিসেবে অভিযোগ করেছেন—এ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভুক্তভোগী নিজেই জানিয়েছেন, তাঁর কাছে কেউ চাঁদা দাবি করেনি। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা মামলা ছাড়া এ ধরনের ঢালাও অভিযোগের আইনি ভিত্তি নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তবে সালমান মুক্তাদির লিখিত অভিযোগ বা মামলা করলে পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
মিরপুরের শাহআলী থানা এলাকায় রাড্ডা ক্লিনিকে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা ও দায়িত্বে অবহেলার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে বলেও জানান সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেন, ২৫ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে সংঘটিত ওই ঘটনার পর শাহআলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
ঘটনাটি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণের জন্য ডিএমপি কমিশনারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় এরই মধ্যে নয়জনকে গ্রেপ্তার এবং বেশ কিছু মালামাল ও আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। জড়িত সব অপরাধীর বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ কর্মকর্তাদের নিয়মিত ও প্রশাসনিক বদলি প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কোনো কর্মকর্তার দায়িত্বে অবহেলা বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ থাকলে শুধু বদলিই চূড়ান্ত ব্যবস্থা নয়।
কোনো কর্মকর্তা রাষ্ট্রদ্রোহিতা বা অন্য কোনো ফৌজদারি অপরাধে জড়িত থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি নিয়মিত মামলায় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
এ প্রসঙ্গে ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ওসির বিরুদ্ধে তদন্ত, ফরেনসিক পরীক্ষা, রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে মামলা ও গ্রেপ্তারের বিষয়টি তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশ বাহিনীতে কোনো ধরনের অপরাধ বরদাশত করা হবে না।
ককটেল বিস্ফোরণ ও রাজপথের আন্দোলন নিয়ে এক নেতার সাম্প্রতিক বক্তব্যকে ‘অসংলগ্ন ও ভারসাম্যহীন’ উল্লেখ করে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে চাননি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিষয়টি মূল্যায়নের দায়িত্ব সচেতন জনগণের ওপরই ছেড়ে দিচ্ছেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এ লক্ষ্যেই সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে কাজ করছে।


