বৈধ কাগজপত্র থাকলেও নারীকে বিদেশযাত্রায় বাধা, হাইকোর্টের রুল

জাতীয়
বৈধ কাগজপত্র থাকলেও নারীকে বিদেশযাত্রায় বাধা, হাইকোর্টের রুল
২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বৈধ পাসপোর্ট, ভিসা বা এন্ট্রি পারমিশন এবং বিমান টিকিট থাকার পরও প্রাপ্তবয়স্ক নারী যাত্রীদের বিদেশযাত্রায় বাধা দেওয়ার অভিযোগে কড়া অবস্থান নিয়েছেন হাইকোর্ট। এ ঘটনায় রুল জারির পাশাপাশি আবেদনকারীদের অভিযোগ সাত দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করে আদালতে কমপ্লায়েন্স প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে পরবর্তী সময়ে বিদেশযাত্রার ক্ষেত্রে আবেদনকারীদের বাধা না দিতেও ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) তিন নারীর করা রিটের শুনানি শেষে বিচারপতি কামরুল কাদের ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের হাইকোর্ট বেঞ্চ এসব নির্দেশনা দেন। শুনানিতে রিটকারীদের পক্ষে ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান। তাকে সহযোগিতা করেন আইনজীবী তানজিলা রহমান জুই।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

রুলে আদালত জানতে চেয়েছেন, বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও আবেদনকারীদের বিদেশযাত্রায় বাধা দেওয়ার কার্যক্রম কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না। একই সঙ্গে প্রাপ্তবয়স্ক নারী নাগরিকদের বৈধ বিদেশযাত্রায় শুধু অবিবাহিত হওয়া, অভিভাবক ছাড়া ভ্রমণ করা কিংবা এ ধরনের লিঙ্গভিত্তিক বিবেচনায় বাধা না দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে যথাযথ নির্দেশনা প্রণয়ন ও জারির নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।

রিটে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), অতিরিক্ত আইজিপি, পুলিশ সদর দপ্তর এবং হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিবাদী করা হয়েছে।

রিটে অভিযোগ করা হয়, আবেদনকারীদের বিদেশযাত্রায় কোনো আদালতের নিষেধাজ্ঞা বা অন্য কোনো আইনগত প্রতিবন্ধকতা ছিল না। প্রয়োজনীয় বৈধ কাগজপত্র থাকার পরও তাদের বিমানবন্দর থেকে বিদেশে যেতে দেওয়া হয়নি।

আবেদনকারীদের বক্তব্য, কোনো প্রাপ্তবয়স্ক নারী অবিবাহিত কি না, তার বাবা-মা বা অভিভাবক সঙ্গে আছেন কি না—এসব বিষয় একজন নাগরিকের বৈধ বিদেশযাত্রা নিয়ন্ত্রণের স্বতন্ত্র আইনগত ভিত্তি হতে পারে না।

রিটে আরও বলা হয়, এ ধরনের আচরণ সংবিধানের ২৭ ও ২৮ অনুচ্ছেদে থাকা সমতা ও লিঙ্গবৈষম্যবিরোধী নিশ্চয়তা, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদে থাকা আইনের আশ্রয় ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার এবং ৩৬ অনুচ্ছেদে নিশ্চিত করা চলাফেরার স্বাধীনতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সাংবিধানিক প্রশ্ন তৈরি করে।

ইমিগ্রেশন পুলিশের সরকারি ওয়েবসাইটেও বৈধ ভ্রমণ নথি থাকার পর বিদেশযাত্রার সময় হয়রানির শিকার হলে যোগাযোগের জন্য অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা ও হটলাইন নম্বর দেওয়া রয়েছে।