উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শয্যা বাড়িয়ে ১৫০ করার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

জাতীয়
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শয্যা বাড়িয়ে ১৫০ করার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

মুহুরী-কহুয়া সেচ প্রকল্প উদ্বোধন শেষে এক সমাবেশে বক্তব্য দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

১ অক্টোবর ২০২৬

ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে সরকারি সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে আধুনিক ও সক্ষম করে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে ফেনীর পরশুরামে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে মুহুরী-কহুয়া সেচ প্রকল্প উদ্বোধন শেষে এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে উপজেলা পর্যায়েই মানুষ যাতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পায়, সেই ব্যবস্থা করা হবে। জটিল রোগের চিকিৎসার জন্য যেন মানুষকে জেলা সদর কিংবা রাজধানীতে ছুটতে না হয়, সেদিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

তিনি ঘোষণা দেন, দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে বর্তমান ৫০ শয্যা থেকে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করা হবে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এ কার্যক্রম বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে বলেও জানান তিনি।

ফ্যামিলি কার্ড প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর মাধ্যমে পরিবারের নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নারীরা স্বাবলম্বী হলে পুরো পরিবার উপকৃত হবে। একইভাবে ক্ষুদ্র, প্রান্তিক ও মাঝারি কৃষকদের কাছে সরকারি সহায়তা সরাসরি পৌঁছে দেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো মধ্যস্বত্বভোগী থাকবে না।

ফেনীর ফুলগাজী ও পরশুরামের বন্যা পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, মুহুরী-কহুয়া নদী ও খালকে সংযুক্ত করে খাল খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে মানুষের কল্যাণে। কয়েক বছর আগে ভয়াবহ বন্যায় এ এলাকার ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি সেতুর ওপর দিয়েও পানি প্রবাহিত হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা ভুলে গেলে চলবে না।

তিনি বলেন, বন্যা ও জলাবদ্ধতা নিরসন, কৃষিজমির পানি নিষ্কাশন এবং মানুষের পানির সুবিধা নিশ্চিত করতে নদী-খাল খনন প্রয়োজন। নির্বাচনের আগে বিএনপি নদী-খাল খননের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। সেই প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবেই এ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃষকদের জন্য কর্মসূচি, নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড এবং মানুষের সুবিধার জন্য নদী-খাল খনন—সব উদ্যোগের মূল লক্ষ্য সাধারণ মানুষকে উপকৃত করা। বিএনপি মানুষের জন্য রাজনীতি করে এবং মানুষের কল্যাণে কাজ করতে চায়।

সমাবেশে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন তিনি। তার দাবি, গত কয়েক বছরে ভোট ও মানুষের অধিকার নিয়ে কথা বলায় বিএনপির অনেক নেতাকর্মী নির্যাতন, গ্রেপ্তার ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। এখন গণতন্ত্র ও মানুষের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার সময় এসেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমালোচনার জবাবে তারেক রহমান বলেন, অন্যের দিকে আঙুল তোলার আগে নিজেদের কর্মকাণ্ডের দিকে তাকানো উচিত। নিজেদের সময়ে নারী ও সাধারণ মানুষের উন্নয়নে কী করা হয়েছে, তার হিসাবও জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে।

কিছু রাজনৈতিক দল বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলেও দাবি করেন প্রধানমন্ত্রী। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ উন্নয়নমূলক কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত হলে সাধারণ মানুষই ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারেক রহমান বলেন, অতীতে আইনের শাসন ভূলুণ্ঠিত করা হয়েছিল। বিএনপি দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চায়। একই সঙ্গে তিনি নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষকে রাজনৈতিকভাবে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানির সভাপতিত্বে সমাবেশে পরিবেশমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল চৌধুরী মিন্টু, স্থানীয় সংসদ সদস্য মুন্সী রফিকুল আলম মজনুসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিএনপির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।