মুক্তিযোদ্ধাদের মৃতদেহ দাফন ও সৎকারে বরাদ্দ সাড়ে ৯ কোটি টাকা
মুক্তিযোদ্ধাদের মরদেহ সমাহিত, সৎকার ও পরিবহনের তাৎক্ষণিক ব্যয় মেটাতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট থেকে ৯ কোটি ৪৯ লাখ ৯৪ হাজার ৪০০ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
গত ২৯ সেপ্টেম্বর মন্ত্রণালয়ের বাজেট অধিশাখা থেকে জারি করা এক আদেশে এ বরাদ্দের কথা জানানো হয়। বরাদ্দের অর্থ দেশের ৬৪ জেলার জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের অনুকূলে ছাড় করা হবে।
আদেশে বলা হয়েছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পরিচালন বাজেটের বিশেষ কার্যক্রমের আওতায় যুদ্ধাহত ও অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী ভাতা খাতের দাফন বাবদ অনুদানের জন্য মোট ১৮ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। এর মধ্যে থেকে ৯ কোটি ৪৯ লাখ ৯৪ হাজার ৪০০ টাকা মরদেহ সমাহিত, সৎকার ও পরিবহনের ব্যয়ে ব্যবহার করা হবে।
সংশ্লিষ্ট জেলা ও উপজেলা প্রশাসন নিজ নিজ জেলা বা উপজেলা হিসাবরক্ষণ কার্যালয় থেকে বরাদ্দের অর্থ উত্তোলন করবে। এ জন্য সারণি অনুযায়ী মোট বরাদ্দের অথরিটি সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ে পাঠাতে চিফ অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড ফিন্যান্স অফিসারকে অনুরোধ করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, ছাড় করা অর্থ চলতি অর্থবছরের বাজেটে নির্ধারিত দাফন বাবদ অনুদান খাতের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা যথাযথ বিলের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট জেলা বা উপজেলা ট্রেজারি থেকে অর্থ উত্তোলন করবেন।
বরাদ্দের অর্থ শুধু মুক্তিযোদ্ধার মরদেহ সৎকার, সমাহিত ও পরিবহনের কাজে ব্যয় করা যাবে। অন্য কোনো উদ্দেশ্যে এ অর্থ ব্যবহার করা যাবে না।
এ ছাড়া অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে সরকারি আর্থিক বিধি-বিধান ও নিয়মাচার যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে। কোনো ধরনের অনিয়ম হলে সংশ্লিষ্ট বিতরণকারী কর্তৃপক্ষকে দায়ী থাকতে হবে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ ব্যয় করা না হলে ৩০ জুন ২০২৭-এর পর অব্যয়িত অর্থ সরকারি কোষাগারের নির্ধারিত খাতে জমা দিতে হবে। একই সঙ্গে এ বিষয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে অবহিত করতে হবে।
দেশের সব জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বরাদ্দের অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে আদেশটি প্রকাশের জন্য সিস্টেম অ্যানালিস্টকেও অনুরোধ করা হয়েছে।
আদেশে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (বাজেট) ডা. মু. আসাদুজ্জামান স্বাক্ষর করেন।


