বিশ্বে সম্মানের সঙ্গে টিকে থাকতে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এগোতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

জাতীয়
বিশ্বে সম্মানের সঙ্গে টিকে থাকতে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এগোতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
৫ অক্টোবর ২০২৬

প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে সম্মানের সঙ্গে টিকে থাকতে হলে সব ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে বাংলাদেশকে এগিয়ে যেতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সোমবার (৫ অক্টোবর) বিশ্ব বসতি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব বসতি দিবসের তাৎপর্য শুধু একটি ঘর বা ছাদ নিশ্চিত করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। টেকসই আবাসনের সঙ্গে নিরাপদ পানি, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, উন্নত পয়োনিষ্কাশন, গণপরিবহন, ভালো সড়কব্যবস্থা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা এবং পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের বিষয়গুলোও সরাসরি জড়িত। সব মিলিয়ে মানুষের মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করাই টেকসই আবাসনের লক্ষ্য।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

তিনি বলেন, উন্নত দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ দেশে সবার জন্য নিরাপদ ও টেকসই বাসস্থান নিশ্চিত করা অনেক বেশি চ্যালেঞ্জের। তবে প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে সম্মানের সঙ্গে টিকে থাকতে হলে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই সামনে এগোতে হবে। নাগরিকদের শুধু মাথা গোঁজার ঠাঁই নয়, নিরাপদ ও টেকসই আবাসন নিশ্চিত করাও এখন সময়ের দাবি।

দেশের নগরায়ণের বর্তমান চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শহর ও নগরগুলোতে প্রতিনিয়ত মানুষের বসতি বাড়ছে। রাজধানী ঢাকা ইতোমধ্যে অতিরিক্ত জনবহুল হয়ে উঠেছে। অন্যান্য শহরেও একই ধরনের চাপ তৈরি হচ্ছে। এ বাস্তবতায় ‘সর্বজনীন বাসস্থান ও টেকসই নগরায়ণ’ ধারণাকে গুরুত্ব দিয়ে সাশ্রয়ী ও মানসম্মত আবাসনের পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব নগর গড়ে তুলতে হবে।

সবার জন্য আবাসনকে মৌলিক সাংবিধানিক অধিকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার বাসযোগ্য, সাশ্রয়ী, পরিবেশসম্মত ও নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। পরিকল্পিত নগরায়ণ ও আবাসন সরকারের অন্যতম প্রধান নির্বাচনী অঙ্গীকার।

নগর উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, প্রতিটি সিটি কর্পোরেশন ও জেলায় মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের কাজ চলছে। ইতোমধ্যে সিলেট, ময়মনসিংহ, বরিশাল, কুমিল্লা, রংপুর ও নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করা হয়েছে। এসব উদ্যোগ জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) ১১ নম্বর অভীষ্ট অর্জনে ভূমিকা রাখবে।

ঢাকার ওপর জনসংখ্যার চাপ কমানোর পরিকল্পনার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি অঞ্চলকে উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ঢাকার চারপাশে সেকেন্ডারি টাউনশিপ গড়ে তোলা এবং স্থানিক পরিকল্পনা প্রণয়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আবাসন সংকট মোকাবিলায় বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, দেশের শহরাঞ্চলের আবাসন সমস্যা একা সরকারের পক্ষে সমাধান করা কঠিন। এ ক্ষেত্রে আবাসন খাতের বেসরকারি উদ্যোক্তাসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, পরিকল্পিত নগরায়ণের অংশ হিসেবে ব্লকভিত্তিক আবাসন, এলাকাভিত্তিক পার্ক ও খেলার মাঠ এবং নির্দিষ্ট এলাকায় শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।

পরে প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব বসতি দিবস-২০২৬-এর বিভিন্ন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন।