বিদ্যুৎ উৎপাদনের দোরগোড়ায় রূপপুর, বি টু অনুমতির অপেক্ষায়

জাতীয়
বিদ্যুৎ উৎপাদনের দোরগোড়ায় রূপপুর, বি টু অনুমতির অপেক্ষায়
৮ অক্টোবর ২০২৬

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে ‘বি-টু’ বা ক্রিটিক্যালিটি ধাপে যাওয়ার অনুমতির অপেক্ষায় রয়েছে কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (বায়রা) প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়ার পর এ ধাপে প্রবেশ করবে ইউনিটটি।

এই ধাপে প্রথমবারের মতো চুল্লিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ চেইন রিঅ্যাকশন বা পারমাণবিক বিভাজন শুরু করা হবে। এরপর ধীরে ধীরে চুল্লির শক্তি বাড়িয়ে নিরাপদভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনের দিকে এগোনোর প্রক্রিয়া শুরু হবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) নির্দেশনা অনুযায়ী রাশিয়ার সহযোগিতায় নির্মিত প্রকল্পটির প্রথম ইউনিটের ‘বি-ওয়ান’ ধাপের কার্যক্রম প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। সর্বশেষ স্বয়ংক্রিয় চাপ প্রশমন ভালভের পরীক্ষাসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ করা হয়েছে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

এর পরের ধাপই ‘বি-টু’। এই পর্যায়ে পারমাণবিক চুল্লিকে প্রাথমিক অপারেশনের জন্য প্রস্তুত করা হয়। বায়রার অনুমোদন পাওয়ার পর শুরু হবে ক্রিটিক্যালিটি। তখন চুল্লিতে নিয়ন্ত্রিত ও স্বয়ংসম্পূর্ণ চেইন রিঅ্যাকশন সৃষ্টি করা হবে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালক ড. মো. কবির হোসেন বলেন, প্রয়োজনীয় নথিপত্র বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। বায়রার কাছ থেকে প্রয়োজনীয় অনুমতি পাওয়ার পর পরবর্তী ধাপে যাওয়া হবে।

তিনি বলেন, ‘এখন সব কমপ্লিট। আর কিছুই নেই। সব আমরা বায়রাকে সাবমিট করছি। এখন বায়রার পারমিশন পেলে ইনশাআল্লাহ আমরা পরবর্তী স্টেজে যাব, যেটাকে বি-টু বলে।’

প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ক্রিটিক্যালিটি শুরু হওয়ার পর চুল্লির শক্তি ধাপে ধাপে বাড়ানো হবে। নির্ধারিত পরীক্ষামূলক ও নিরাপত্তা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে উৎপাদন সক্ষমতা ৩০০ মেগাওয়াটে পৌঁছালে জাতীয় সঞ্চালন গ্রিডে বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হবে।

রূপপুর থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য ইতোমধ্যে আটটি সঞ্চালন লাইন নির্মাণ করা হয়েছে। এসব লাইনের নির্মাণকাজও শেষ হয়েছে।

দেশে বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতি ও বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিংয়ের মধ্যে রূপপুরের প্রথম ইউনিট থেকে কবে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যুক্ত হবে, সেদিকেই এখন নজর সংশ্লিষ্টদের।