ডিসেম্বরের আগে গঙ্গা চুক্তি, মার্চের মধ্যে পদ্মা ব্যারাজ

জাতীয়
ডিসেম্বরের আগে গঙ্গা চুক্তি, মার্চের মধ্যে পদ্মা ব্যারাজ
৮ অক্টোবর ২০২৬

চলতি বছরের ১২ ডিসেম্বরের আগে ভারতের সঙ্গে গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি সম্পন্ন হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। নতুন চুক্তিতে ১৯৭৭ সালের চুক্তির মতো ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ ফিরিয়ে আনা বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার বলেও জানিয়েছেন তিনি।

একই সঙ্গে আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের কাজ দৃশ্যমান হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী। আর তিস্তা বহুমুখী প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই শেষ করে ২০২৭ সালের মধ্যেই মূল কাজ শুরু করার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ঢাকায় বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিআইআইএসএস) আয়োজিত ‘পানির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন ভাবনা: তরুণ নেতৃত্ব, ন্যায়বিচার ও সহযোগিতা’ শীর্ষক সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, পদ্মা ব্যারাজ ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মেগা প্রকল্প। এসব প্রকল্পের সুফল দেশের বড় একটি জনগোষ্ঠী পাবে। পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প ইতোমধ্যে একনেকে অনুমোদিত হয়েছে। আগামী বছরের জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি বা মার্চের যেকোনো এক সময়ে এর কাজ দৃশ্যমান করার আশা রয়েছে।

তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে এ্যানি বলেন, তিস্তা একটি খরস্রোতা নদী এবং উজানের পানি প্রবাহের কারণে দীর্ঘদিন ধরে নদীটির তীরবর্তী মানুষ নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) বিশেষজ্ঞদের কারিগরি সহায়তা নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, খুব শিগগির তিস্তা প্রকল্পের ফিজিবিলিটি স্টাডি বা সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ হাতে নেওয়া হবে। স্টাডির ফলাফলের ভিত্তিতেই মূল প্রকল্পের কাজ শুরু হবে। ২০২৭ সালের মধ্যে সম্ভাব্যতা যাচাইসহ প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করে একই বছরে মূল কাজ শুরুর দিকে সরকারের নজর রয়েছে।

গঙ্গা চুক্তির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ আগামী ১২ ডিসেম্বর শেষ হবে। এর আগে ১৯৭৭ সালে স্বাক্ষরিত চুক্তিতে ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ ছিল। পরবর্তী সময়ে ১৯৯৬ সালের চুক্তিতে সেই ধারা রাখা হয়নি।

এ্যানি বলেন, মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নতুন চুক্তি করতে বাংলাদেশ ও ভারত যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) মাধ্যমে কাজ করছে। বিভিন্ন পর্যায়ের বৈঠকের ভিত্তিতে সরকার আশাবাদী, ১২ ডিসেম্বরের আগেই চুক্তি সম্পন্ন হবে। নতুন চুক্তিতে ১৯৭৭ সালের মতো ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ ফিরিয়ে আনার বিষয়টি আলোচনায় বাংলাদেশের প্রধান অগ্রাধিকার থাকবে।

পদ্মা ব্যারাজ ও তিস্তা প্রকল্পে বিদেশি কোনো চাপ বা প্রতিবন্ধকতা আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, এসব প্রকল্পে পদ্মা ও তিস্তার তীরবর্তী মানুষের স্বার্থই সরকারের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। দেশের মানুষের কল্যাণকে সামনে রেখেই প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন এগিয়ে নেওয়া হবে।

পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের দীর্ঘসূত্রতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রকল্পটির স্টাডি সম্পন্ন করতে ২০০৪ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত সময় লেগেছিল। পরে এটি বাস্তবায়িত হয়নি। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক মাসের মধ্যে বিষয়টি চূড়ান্ত করে কাজ হাতে নিয়েছে।

তিস্তার মতো বড় প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই রাতারাতি শেষ করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে এ্যানি বলেন, পর্যাপ্ত কারিগরি সহায়তা নিয়ে কাজটি সম্পন্ন করে তিস্তা প্রকল্পকে বাস্তব রূপ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।