প্রতিটি ইউনিয়নে খেলার মাঠ গড়ে তোলার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

জাতীয়
প্রতিটি ইউনিয়নে খেলার মাঠ গড়ে তোলার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
৮ অক্টোবর ২০২৬

শিশু-কিশোর ও তরুণদের জন্য সুস্থ ও ক্রীড়াবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে খেলার মাঠ গড়ে তোলার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে আগামী দুই মাসের মধ্যে সারাদেশে অন্তত এক হাজার খেলার মাঠ স্থাপনের নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।

বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে ইউনিয়নভিত্তিক খেলার মাঠ স্থাপন ও ক্রীড়া কার্যক্রম সম্প্রসারণ নিয়ে এক বৈঠকে এসব নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। সভা শেষে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

বৈঠকে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রতি দুই থেকে তিনটি ওয়ার্ডের জন্য অন্তত একটি মাঠ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এর অংশ হিসেবে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি এলাকায় ৪০টি এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি এলাকায় ৯০টি মাঠ খেলাধুলার উপযোগী করে নিয়মিত ক্রীড়া কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

নির্বাচনী ইশতেহারের অঙ্গীকার বাস্তবায়নের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী প্রতিটি ইউনিয়নে অন্তত একটি মাঠ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন। মাঠগুলো সবার জন্য উন্মুক্ত রাখার পাশাপাশি শিশু-কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার সুযোগ বাড়ানোর নির্দেশ দেন তিনি।

বৈঠকে জানানো হয়, দেশের ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নে পর্যায়ক্রমে মাঠ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে ২৭টি জেলায় মাঠের জন্য ৪০৩টি খাসজমি চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতিটি মাঠের আয়তন তিন থেকে আট বিঘার মধ্যে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। মাঠের রক্ষণাবেক্ষণ ও নিয়মিত ক্রীড়া কার্যক্রম নিশ্চিত করতে প্রতিটি উপজেলায় একজন করে ক্রীড়া কর্মকর্তা নিয়োগের সিদ্ধান্তও হয়েছে।

এ ছাড়া ইউনিয়ন পর্যায়ে ফুটবল, ক্রিকেট, ভলিবল ও ব্যাডমিন্টনসহ ১০টি ক্রীড়া ইভেন্টে প্রায় ১৪ লাখ কিশোর-কিশোরীকে যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আগামী ৫ নভেম্বর খুলনা থেকে একযোগে দেশের ৫০৩টি উপজেলায় এই ক্রীড়া কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী।

বৈঠকে বিদ্যমান উপজেলা স্টেডিয়ামগুলো সচল করা, দখল হয়ে যাওয়া মাঠ উদ্ধার এবং বিদ্যালয়গুলোতে নিয়মিত খেলাধুলা ও ক্রীড়া ক্লাব কার্যক্রম চালুর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রী দেশের সব খেলার মাঠ সংরক্ষণ এবং সারা বছর খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম চালু রাখার নির্দেশ দেন। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সুস্থ, সুন্দর ও ক্রীড়াবান্ধব প্রজন্ম গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করারও নির্দেশনা দেন তিনি।

বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী আসাদুল হাবীব দুলু, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুর ইসলাম খান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহাদী আমীন উপস্থিত ছিলেন।