পাঠাওয়ের ১৯ মিলিয়ন ব্যবহারকারীর তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার দাবি
হ্যাকারদের চাওয়া ৪ লাখ ডলার
ডিজিটাল প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান পাঠাওয়ের প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ ব্যবহারকারীর তথ্য নিজেদের দখলে রয়েছে বলে দাবি করেছে একটি চক্র। তাদের দাবি, এসব তথ্যের মধ্যে ব্যবহারকারীদের মুঠোফোন নম্বর, ই-মেইল, জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) নম্বর, ড্রাইভিং লাইসেন্স, অবস্থান, ফেসবুক পরিচিতি ও বাসার ঠিকানা রয়েছে।
এসব তথ্য প্রকাশ না করার বিনিময়ে পাঠাওয়ের কাছে ৪ লাখ ডলার দাবি করা হয়েছে। তবে কথিত তথ্যভান্ডারের দাবিটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সাইবার নিরাপত্তাবিষয়ক প্ল্যাটফর্ম ডেইলি ডার্ক ওয়েব বুধবার (৭ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এ বিষয়ে একটি পোস্ট দেয়। সেখানে ডার্ক ওয়েবে করা দাবির একটি স্ক্রিনশটও প্রকাশ করা হয়।
পোস্টে দাবি করা হয়েছে, চক্রটির কাছে পাঠাওয়ের প্রায় ১৩৩ গিগাবাইট তথ্য রয়েছে। এতে প্রায় ২৫ কোটি রেকর্ড ও ৫৯১টি তথ্যভান্ডার রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। সবচেয়ে বড় তথ্যভান্ডারে ১ কোটি ৯০ লাখ ৬৩ হাজার ৯১৮টি হিসাবের তথ্য রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
এ ছাড়া ১ কোটি ৯০ লাখের বেশি এনআইডি ও মুঠোফোন নম্বর, একই সংখ্যক ড্রাইভিং লাইসেন্সের তথ্য, প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ ব্যবহারকারীর ছবি এবং প্রায় ৫৭ লাখ বাসার ঠিকানা থাকার দাবি করা হয়েছে।
চক্রটি পাঠাওয়ের অভ্যন্তরীণ ও ব্যবসায়িক তথ্যও নিজেদের কাছে থাকার দাবি করেছে। এর মধ্যে কর্মীদের তথ্য, প্রশাসনিক প্রবেশাধিকারের নথি, ব্যবসায়ীদের ব্যাংক হিসাব ও শাখা শনাক্তকরণ নম্বর, অর্থ লেনদেনের তথ্য, পণ্য সরবরাহের অবস্থান এবং চালকদের যাত্রার নথির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
অর্থ পরিশোধ না করলে এনআইডি, ব্যাংক, কর্মী ও প্রশাসনিক তথ্য প্রকাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে।
এর আগে ৪ অক্টোবর সাইবার নিরাপত্তাজনিত একটি ঘটনা শনাক্ত করার কথা জানায় পাঠাও। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিস্টেম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হলে বিভিন্ন সেবা বিঘ্নিত হয়। পরে সেবা চালু হলেও সিস্টেম স্থিতিশীল করতে কাজ চলছিল।
৭ অক্টোবর দেওয়া এক বিবৃতিতে পাঠাও জানায়, ঘটনার সময় নাম, ই-মেইল ঠিকানা ও ফোন নম্বরসহ কিছু ব্যক্তিগত তথ্য দুর্বৃত্তদের হাতে গেছে বলে তারা জানতে পেরেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের যুক্ত করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
তবে কথিত ১ কোটি ৯০ লাখ ব্যবহারকারীর তথ্য, এনআইডি, ড্রাইভিং লাইসেন্স বা অন্যান্য বিপুল পরিমাণ তথ্য চুরির দাবির বিষয়ে পাঠাও এখনো প্রকাশ্যে নিশ্চিত কোনো তথ্য দেয়নি।
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা বলেন, বিষয়টি যাচাইয়ে দ্রুত স্বাধীন ডিজিটাল ফরেনসিক তদন্ত প্রয়োজন। পাশাপাশি সার্ভার, অ্যাকসেস লগসহ সংশ্লিষ্ট ডিজিটাল আলামত সংরক্ষণ এবং আইন অনুযায়ী নিয়ন্ত্রক ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে অবহিত করা জরুরি।
এদিকে ঘটনার পর ব্যবহারকারীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে পাঠাও। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তাদের নামে আসা সন্দেহজনক বার্তা, ফোনকল বা লিংকে ব্যক্তিগত তথ্য, পাসওয়ার্ড, পিন বা ওটিপি দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।


