ভারতের সঙ্গে পানি বণ্টনে ন্যায্য হিস্যার প্রশ্নে অনড় বাংলাদেশ

জাতীয়
ভারতের সঙ্গে পানি বণ্টনে ন্যায্য হিস্যার প্রশ্নে অনড় বাংলাদেশ
৯ অক্টোবর ২০২৬

ভারতের সঙ্গে অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, পানি বণ্টনসংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে আলোচনা, সংলাপ ও কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখবে বাংলাদেশ। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আইনের প্রাসঙ্গিক নীতিমালাও বিবেচনায় নেওয়া হবে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) মিলনায়তনে ‘পানির ভবিষ্যৎ নিয়ে পুনর্বিবেচনা: যুব নেতৃত্ব, ন্যায়বিচার ও সহযোগিতা’ শীর্ষক সেমিনারে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। সেমিনারের আয়োজন করে বিআইআইএসএস।

আন্তঃসীমান্ত নদী ও গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে এ বিষয়ে আলোচনা চলছে এবং তা অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

তিনি বলেন, দুই দেশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও পানি আলোচনায় যুক্ত প্রতিনিধিদের মধ্যে আন্তরিকতা এবং সহযোগিতার মানসিকতা থাকলে বন্ধুত্বপূর্ণ ও ইতিবাচক সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব।

পানি বণ্টনে আওয়ামী লীগ সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, অবৈধ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় আসা সরকার জনগণের সঠিক প্রতিনিধিত্ব করতে পারে না। তাঁর দাবি, এ কারণে আওয়ামী লীগ সরকার ভারতের কাছ থেকে বাংলাদেশের পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে ব্যর্থ হয়েছে।

পানি বণ্টনসংক্রান্ত বিষয় পর্যালোচনায় বাংলাদেশ একটি কমিটি গঠন করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, ভারতও নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বিষয়গুলো পর্যালোচনা করছে। দুই দেশের নেতৃত্ব, রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে এলে এ ক্ষেত্রে অগ্রগতি সম্ভব।

হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশের সদিচ্ছা রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভারত থেকেও ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার আশা করছে বাংলাদেশ। আলোচনা এগিয়ে গেলে ভবিষ্যতে পানি চুক্তি নবায়নের পথ সহজ হবে। তবে এ জন্য দুই দেশকেই সমানভাবে সহযোগিতা ও প্রতিশ্রুতি নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৫৪টি অভিন্ন নদী রয়েছে। এসব নদীর পানি ব্যবস্থাপনা ও ন্যায্য বণ্টন দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অভিন্ন নদী নিয়ে আলোচনার প্রধান প্রাতিষ্ঠানিক মাধ্যম যৌথ নদী কমিশন (জেআরসি)।

১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার সময় ঘনিয়ে আসায় এর ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা চলছে। শুষ্ক মৌসুমে পর্যাপ্ত পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করা এবং বাংলাদেশের স্বার্থ সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে ঢাকা।

সেমিনারে বহুপক্ষীয় পানি কূটনীতি, আঞ্চলিক সহযোগিতা ও আন্তঃসীমান্ত পানি ব্যবস্থাপনায় অন্তর্ভুক্তিমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি পানি-সংক্রান্ত ন্যায়বিচার, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব এবং নীতিনির্ধারণে তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।