পদায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা, প্রশিক্ষণ বর্জনের ঘোষণা ১৪ হাজার শিক্ষকের

জাতীয়
পদায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা, প্রশিক্ষণ বর্জনের ঘোষণা ১৪ হাজার শিক্ষকের
৯ অক্টোবর ২০২৬

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫-এর আওতায় নবনিযুক্ত ১৪ হাজার ৩৮৪ জন শিক্ষকের পদায়নের সময়সীমা দ্বিতীয় দফায় পিছিয়ে ১৮ অক্টোবর নির্ধারণ করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে পরিচিতিমূলক ওরিয়েন্টেশন প্রশিক্ষণের মেয়াদ বাড়িয়ে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত করা হয়েছে। বারবার পদায়নের তারিখ পরিবর্তনের প্রতিবাদে প্রশিক্ষণ বর্জন ও লাগাতার অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন ক্ষুব্ধ নবনিযুক্ত শিক্ষকেরা।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) মন্ত্রণালয়ের বিদ্যালয় শাখা-২ থেকে জারি করা অফিস আদেশে পদায়নের নতুন সময়সূচি জানানো হয়। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরকে (ডিপিই) অনুরোধ করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের আগের সূচি অনুযায়ী, সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের ১ অক্টোবর নিজ নিজ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ে যোগদান করার কথা ছিল। সে অনুযায়ী তাঁরা যোগদান সম্পন্ন করেন। এরপর ৪ অক্টোবর বিদ্যালয়ভিত্তিক পদায়নের কথা থাকলেও প্রথম দফায় তা পিছিয়ে ১১ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়। একই দিন থেকে শুরু হয় পাঁচ দিনব্যাপী ওরিয়েন্টেশন প্রশিক্ষণ। এবার দ্বিতীয় দফায় পদায়নের সময় বাড়িয়ে ১৮ অক্টোবর নির্ধারণ করায় অসন্তোষ তৈরি হয়েছে শিক্ষকদের মধ্যে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

নবনিযুক্ত শিক্ষকেরা অভিযোগ করেছেন, চূড়ান্ত সুপারিশ পাওয়ার পর প্রায় আট মাস ধরে তাঁদের অনিশ্চয়তা ও আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করার দাবিতে এর আগে তিন দফায় শাহবাগ ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সামনে কর্মসূচি পালন করেছেন তাঁরা। মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একাধিকবার যোগাযোগের পরও বারবার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হওয়ায় তাঁদের মধ্যে ক্ষোভ বেড়েছে বলে জানান শিক্ষকরা।

ওরিয়েন্টেশন প্রশিক্ষণ নিয়েও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ তুলেছেন তাঁরা। শিক্ষকদের দাবি, অনেক জেলায় সরকারি বরাদ্দ ও খাবারের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় নিজেদের অর্থে প্রশিক্ষণে অংশ নিতে হয়েছে। কোথাও কোথাও প্রশিক্ষণ শেষে সমাপনী অনুষ্ঠান ও সনদ বিতরণও করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রশিক্ষণের মেয়াদ বাড়ানো এবং পদায়ন পেছানোর সিদ্ধান্তকে তাঁরা অযৌক্তিক বলে মনে করছেন।

একই ব্যাচের শিক্ষকদের পদায়নে বৈষম্যের অভিযোগও তুলেছেন নবনিযুক্তরা। তাঁদের দাবি, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও মাগুরাসহ কয়েকটি জেলায় ইতোমধ্যে পদায়ন সম্পন্ন হয়েছে। অথচ অন্য জেলাগুলোর ক্ষেত্রে বারবার সময়সীমা পরিবর্তন করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বয়হীনতার কারণে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন শিক্ষককে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে বলেও অভিযোগ তাঁদের।

এ পরিস্থিতিতে চার দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন ‘সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫’ ব্যাচের শিক্ষকেরা। কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেশের ৬১ জেলার সব উপজেলায় বর্ধিত ওরিয়েন্টেশন প্রশিক্ষণ বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন তাঁরা। পাশাপাশি শনিবার দুপুর ২টায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সামনে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালনের কথা জানিয়েছেন।

শিক্ষকদের দাবি, আগামী ১১ অক্টোবরের মধ্যে সব জেলার নবনিযুক্ত শিক্ষকের চূড়ান্ত পদায়ন নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় ওই দিন সকাল ১০টা থেকে প্রতিটি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সামনে পদায়ন নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন তাঁরা।

২০২৬ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত ফলাফলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে ৬১ জেলায় ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়। দীর্ঘ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের যোগদান সম্পন্ন হলেও পদায়নের সময়সূচি দুই দফায় পরিবর্তন করা হয়েছে।