চিকিৎসকদের সমাজ ও দেশের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

জাতীয়
চিকিৎসকদের সমাজ ও দেশের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

ছবি: সংগৃহীত

২ নভেম্বর ২০২৬

চিকিৎসক তৈরিতে রাষ্ট্রের বিপুল অর্থ ব্যয় হয়। তাই পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সমাজ ও দেশের প্রতিও চিকিৎসকদের দায়িত্ববোধ থাকা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, রোগীদের প্রতি ভালোবাসা ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে চিকিৎসাসেবা দিলে অনেক সমস্যার সমাধান সম্ভব।

রোববার (১ নভেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘সোসাইটি অব ওটোলারিঙ্গোলজিস্টস অ্যান্ড হেড-নেক সার্জনস অব বাংলাদেশ’-এর বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

দেশের স্বাস্থ্যসেবা পরিস্থিতি তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের সব মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা অন্যতম রাজনৈতিক অঙ্গীকার। স্বাস্থ্যসেবা জনগণের মৌলিক অধিকার হলেও স্বাধীনতার ৫৭ বছর পেরিয়ে যাওয়ার পরও সবার দোরগোড়ায় কাঙ্ক্ষিত সেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়নি। এটিকে তিনি রাষ্ট্রের ব্যর্থতা হিসেবে উল্লেখ করেন।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

তিনি বলেন, গ্রামের সাধারণ মানুষ এখনো প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত। জেলা সদরের হাসপাতালগুলোতে শয্যা থাকলেও অবহেলা ও দুর্নীতির কারণে অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ যথাযথ চিকিৎসা পাচ্ছেন না। গ্রামীণ পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার পরিস্থিতিও সন্তোষজনক নয়।

স্বাস্থ্য খাতের অব্যবস্থাপনার উদাহরণ তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, আগের সরকারের সময়ে কেনা অনেক চিকিৎসা সরঞ্জাম এখনো অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। ঠাকুরগাঁও হাসপাতালে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জেনারেটর থাকলেও তেলের বরাদ্দ নেই, অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও চালক নেই। অনেক যন্ত্রপাতি কেনা হলেও সেগুলো পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় টেকনিশিয়ান ও মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্টের অভাব রয়েছে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, স্বাস্থ্যসেবার সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় এসব সমস্যা সমাধান করা জরুরি। শুধু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংখ্যা বাড়িয়ে স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন সম্ভব নয়; প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, জনবল ও ব্যবস্থাপনার সমন্বিত উন্নয়নও নিশ্চিত করতে হবে।

চিকিৎসকদের পেশাগত দক্ষতার প্রশংসা করে তিনি বলেন, দেশের চিকিৎসকরা অত্যন্ত মেধাবী ও আন্তরিক। তবে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে কখনো কখনো মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি ও সহমর্মিতার ঘাটতি দেখা যায়। তাই পেশাগত দায়িত্বের পাশাপাশি রোগীদের প্রতি ভালোবাসা ও মানবিক আচরণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে সরকারের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, এ খাতে এখনো অনেক কাজ বাকি রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ও তিনি ব্যক্তিগতভাবে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে আগ্রহী। সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাস্থ্য খাতকে গুরুত্ব দিয়েছিলেন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা বাড়িয়েছিলেন।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান সরকার দেশের দরিদ্র ও সাধারণ মানুষের জন্য একটি উপযুক্ত ও কার্যকর স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে সক্ষম হবে।