পোশাক শিল্পে অস্থিরতা, আজও দুই শতাধিক কারখানা বন্ধ
ছবি: সংগৃহীত
ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ অব্যাহত রয়েছে। সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল থেকে গাজীপুর, সাভার-আশুলিয়া, মিরপুর ও নারায়ণগঞ্জে বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা বিক্ষোভ করছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এসব শিল্পাঞ্চলে আজও প্রায় ২১০টি পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।
শিল্প পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত গাজীপুরে ১৫০টি এবং সাভার-আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে প্রায় ৬০টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি হলে এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সকাল থেকে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকরা। এ ছাড়া কোনাবাড়ী, সফিপুর ও মৌচাক এলাকার বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরাও মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নেন। এতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং উভয় পাশে প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গাজীপুরে ১০ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন জানান, সোমবার ১৫০টি কারখানা ছুটি ঘোষণা করেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।
অন্যদিকে, সাভার-আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলেও শ্রমিকদের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সকাল থেকে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এ সময় বিক্ষোভের মধ্যে একটি কাভার্ড ভ্যানে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে।
আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, কয়েকটি কারখানার শ্রমিক কাজ বন্ধ করে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। শ্রমিক ও কারখানা মালিকদের সঙ্গে কথা বলে দুপুর ১২টা পর্যন্ত অর্ধশতাধিক কারখানায় ছুটি ঘোষণার তথ্য পাওয়া গেছে।
এদিকে, রাজধানীর মিরপুরে মিরপুর-১০ থেকে মিরপুর-১২ নম্বর পর্যন্ত প্রধান সড়কে শ্রমিকদের অবস্থান দেখা গেছে। তবে গত দিনের সংঘর্ষের পর সোমবার তারা সড়ক অবরোধ করেননি। ফলে ওই এলাকায় যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সেখানে অবস্থান করছেন। সকালে মিরপুর-১১ নম্বরে পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া মিরপুর-১০ থেকে একজন এবং কাফরুল থানা পুলিশ আরও পাঁচজনকে আটক করেছে বলে জানা গেছে।
চলমান শ্রমিক আন্দোলনের মধ্যে সোমবার সকালে সচিবালয়ে গার্মেন্টস মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বৈঠক শেষে তিনি অভিযোগ করেন, শ্রমিক আন্দোলনের নামে সীমান্তের ওপারের ইশারায় দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, শ্রমিকদের স্বার্থ সংরক্ষণ ও জীবনমান উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন। উভয় পক্ষের আলোচনার মাধ্যমে বাস্তবতার নিরিখে ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করা হবে। তবে আন্দোলনের নামে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্টদের কঠোর হস্তে দমন করা হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, বিকেলে শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে চলমান আন্দোলন ও ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের বিষয়ে আলোচনা হবে।
এদিকে, শ্রমিক অসন্তোষ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি না হলে কারখানা বন্ধ রাখতে বাধ্য হওয়ার কথা জানিয়েছেন পোশাকশিল্প মালিকরা।
রোববার বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) উত্তরা কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় এ বিষয়ে আলোচনা হয়। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নতুন করে মজুরি বোর্ড গঠনের পরও শ্রমিকরা কাজে যোগ না দিলে শ্রম আইন অনুযায়ী কারখানা বন্ধ রাখার পদক্ষেপ নিতে পারেন মালিকরা।
বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু জানান, শ্রমিকরা কাজে যোগ না দেওয়ায় রোববার ৫২৯টি কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম চালানো সম্ভব হয়নি। প্রতিদিন এভাবে কারখানা চালু রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিকে কেন্দ্র করে কয়েক দিন ধরে দেশের প্রধান পোশাকশিল্প এলাকাগুলোতে এই অস্থিরতা চলছে। এতে উৎপাদন কার্যক্রমের পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও যান চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে।


