সাজেকে আবারও অনির্দিষ্টকালের অবরোধ, সড়কে যানবাহন চলাচলে বাধা
সড়কে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ করছে আন্দোলনকারীরা। ছবি: সংগৃহীত
পাঁচ দফা দাবিতে সাজেকে আবারও অনির্দিষ্টকালের জন্য সড়ক অবরোধ শুরু করেছে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন। এক দিনের বিরতির পর সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল থেকে চতুর্থ দফায় এ কর্মসূচি শুরু হয়। অবরোধের কারণে সাজেক সড়কে বড় ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সদস্যদের সাজেক এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি বন্ধসহ পাঁচ দফা দাবিতে এ অবরোধের ডাক দিয়েছে সংগঠন দুটি।
সোমবার সকাল থেকে সাজেক সড়কের বিভিন্ন স্থানে অবরোধকারীদের অবস্থান নিতে দেখা যায়। কোথাও কোথাও সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়। তবে এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
এর আগে গত ২২ অক্টোবর থেকে টানা ১০ দিন সাজেকে সড়ক অবরোধ চলে। স্থানীয় বাসিন্দাদের খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ এবং মৌলিক চাহিদার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে রোববার (১ নভেম্বর) সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অবরোধ শিথিল করে সংগঠন দুটি। নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পর সোমবার সকাল থেকে আবারও অনির্দিষ্টকালের অবরোধ শুরু হয়।
টানা অবরোধে সাজেকের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। চাল, ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের সংকটে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। রোববার অবরোধ শিথিল থাকলেও পার্বত্য চট্টগ্রাম রক্ষা কমিটি নামে একটি শ্রমিক সংগঠনের ডাকা পৃথক অবরোধের কারণে খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা-সাজেক-বাঘাইছড়ি সড়কে পণ্যবাহী যান চলাচল করতে পারেনি।
সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন জানান, অবরোধের কারণে সড়কে বড় ধরনের যানবাহন চলাচল করছে না। তবে মাঝেমধ্যে অটোরিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল চলাচল করছে। এখন পর্যন্ত কোথাও অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
সাজেকের পরিস্থিতি নিরসনে গত ২৬ অক্টোবর উজোবাজারে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বৈঠক করেন খাগড়াছড়ি আসনের সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়া, রাঙামাটি আসনের সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। বৈঠকে আন্দোলনকারীদের পাঁচ দফা দাবির চারটি বিষয়ে সমঝোতা হলেও একটি দাবি নিয়ে মতপার্থক্য থাকায় আলোচনা অমীমাংসিত থেকে যায়।
তবে পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে আলোচনার জন্য এখনো কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। ফলে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে সাজেকের সড়ক যোগাযোগ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।


