কোরবানির ঈদে দেশজুড়ে গবাদিপশুর উদ্বৃত্ত, আমদানি নয় দেশীয় পশুতেই চাহিদা মেটাবে সরকার
পবিত্র ঈদুল আজহা ২০২৫ উপলক্ষে দেশে কোরবানিযোগ্য গবাদিপশুর চাহিদার তুলনায় প্রায় ২১ লাখ পশু উদ্বৃত্ত থাকবে বলে জানিয়েছে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর। আমদানি বন্ধ থাকায় দেশজুড়ে গড়ে উঠেছে প্রায় ৮.৮৭ লাখ খামার। চাষাবাদ ও পশু পালন খাতে উদ্যোক্তাদের ব্যাপক অংশগ্রহণেই এই সাফল্য এসেছে।
চলতি বছর কোরবানির চাহিদা ১ কোটি ৩ লাখ ৮২ হাজার গবাদিপশু। বিপরীতে প্রাপ্যতা রয়েছে ১ কোটি ২৪ লাখ ৪৭ হাজার, অর্থাৎ প্রায় ২০ লাখ ৬৮ হাজার পশু উদ্বৃত্ত।
বিভাগভিত্তিক চিত্র
-
ঢাকা বিভাগে ঘাটতি: ৮.৬৫ লাখ
-
রাজশাহীতে উদ্বৃত্ত: ১৬.৮৯ লাখ
-
রংপুরে উদ্বৃত্ত: ৫.৬৮ লাখ
বাকি বিভাগগুলোতেও পশু প্রাপ্যতা চাহিদার তুলনায় বেশি।
সারা দেশে প্রায় ৫,৬০০টি হাট বসবে। ঢাকা উত্তরে ১১টি এবং দক্ষিণে ১টি হাট নির্ধারিত। প্রতিটি হাটে দায়িত্বে থাকবে ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম। বড় হাটে থাকবে একাধিক টিম।
অবৈধ পশু অনুপ্রবেশ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো হাট ব্যবস্থাপনায় তৎপর থাকবে।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সুস্থ পশু চেনার উপায় এবং অসুস্থ বা হরমোন-প্রয়োগকৃত পশু এড়িয়ে চলার দিকনির্দেশনা দিয়েছে।
এছাড়াও, পশু পরিবহন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং চামড়া ব্যবস্থাপনায় জনসচেতনতা বাড়াতে লিফলেট বিতরণ ও খামারিদের প্রশিক্ষণ চলছে।
এবারের কোরবানির পশুর বাজার ঘিরে প্রায় ১ লাখ কোটি টাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সৃষ্টি হবে বলে ধারণা মন্ত্রণালয়ের। শুধু চামড়াশিল্প থেকেই সম্ভাব্য আয় প্রায় ৭৮৭ কোটি টাকা।
সরকারি হেল্পলাইন:
-
পুলিশ কন্ট্রোল রুম: ০১৬২০ ০০১ ২২২
-
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর: ১৬০৫৮ / ০১৭১৪ ৬৭৬ ৬০০
গোখাদ্যে ক্ষতিকর উপাদান মেশালে সর্বোচ্চ ২ বছরের জেল অথবা ২ লাখ টাকা জরিমানা হতে পারে। এরই মধ্যে ৫৩ হাজারের বেশি খামার পরিদর্শন করা হয়েছে।
দেশি গরু দিয়েই কোরবানি দিন, দেশি খামারিরা হোক লাভবান – এই আহ্বানই জানাচ্ছে সরকার।


