হামলা বন্ধে ইরানকে প্রস্তাব দিল জার্মানি-ফ্রান্স-যুক্তরাজ্য
মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান ইরান-ইসরায়েল সংঘাত নতুন করে বৈশ্বিক অস্থিরতার আশঙ্কা তৈরি করেছে। সামরিক হামলা ও পাল্টা প্রতিরোধের মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, উত্তেজনা যদি অব্যাহত থাকে, তা হলে তা শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়—পুরো বিশ্ব অর্থনীতি ও নিরাপত্তায় প্রভাব ফেলতে পারে।
সাম্প্রতিক হামলাগুলোতে কেবল সামরিক নয়, বেসামরিক স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সাধারণ মানুষের প্রাণহানির ঘটনা বাড়ছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে, এমন সহিংসতা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন লঙ্ঘনের শামিল হতে পারে।
এ সংঘাত নিয়ে বৈশ্বিক প্রতিক্রিয়ায় দেখা দিয়েছে মেরুকরণ।
সৌদি আরব, তুরস্ক, কাতার, পাকিস্তানসহ অনেক দেশ প্রকাশ্যে ইসরায়েলের ভূমিকার নিন্দা জানিয়ে শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।
অন্যদিকে, জার্মানি, যুক্তরাজ্য এবং ফ্রান্স ইরানকে শান্তি আলোচনা ও পারমাণবিক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে আনতে চাপ দিচ্ছে।
জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোহান ওয়াডেফুল এক বিবৃতিতে বলেন,
“এই সংঘাত নিরসনে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে তাৎক্ষণিক আলোচনা জরুরি। আমরা আলোচনার জন্য প্রস্তুত।”
ইরান ইতোমধ্যে হরমুজ প্রণালি সাময়িকভাবে বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। প্রতিদিন বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের প্রায় ২০% এই পথ দিয়ে যায়। এর ফলে জ্বালানি বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে এবং অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন,
“এই প্রণালি বন্ধ থাকলে তা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ভয়াবহ অভিঘাত আনতে পারে।”
জাতিসংঘ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন দুই পক্ষকেই সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। কূটনীতিকরা দ্বিপক্ষীয় সংলাপ শুরু করতে আন্তর্জাতিকভাবে মধ্যস্থতার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।


