ইলিশের বাড়ি’ হিসেবে খ্যাত চাঁদপুরে এখন ইলিশের স্বাদ শুধু পরিচিতি হিসেবে রয়ে গেছে—বাস্তবে নয়। সিন্ডিকেটের প্রভাবে স্থানীয় বাজারে ইলিশের দাম এতটাই বেড়ে গেছে যে, সাধারণ মানুষ তো বটেই, নিজ জেলার বাসিন্দারাও এ মাছ কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন।
এই বাস্তবতা তুলে ধরে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন।
চিঠিতে তিনি দেশের উপকূলীয় জেলাগুলোতে ইলিশের যৌক্তিক ও নিয়ন্ত্রিত মূল্য নির্ধারণের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।
চিঠিতে বলা হয়, পদ্মা-মেঘনার ইলিশ স্বাদ ও মানের দিক থেকে অতুলনীয়। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে চাঁদপুর ও আশপাশের জেলায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও আড়তদার নিজেদের খেয়ালখুশিমতো দাম হাঁকাচ্ছেন। এর ফলে ইলিশ ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে।
“নদীতে ইলিশ প্রাকৃতিকভাবে উৎপন্ন হয়। উৎপাদনে কৃষি খাতের মতো খরচ নেই। এরপরও বাজারে ইলিশের দাম অস্বাভাবিক। এই দাম সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নির্ধারিত হচ্ছে বলেই ধারণা। তাই কেন্দ্রীয়ভাবে ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ জরুরি,” — চিঠিতে উল্লেখ করেন ডিসি মোহসীন উদ্দিন।
চাঁদপুর মৎস্য ও বণিক সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজী শবে বরাত সরকার অবশ্য সিন্ডিকেটের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,
“আমাদের অবতরণ কেন্দ্রে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেক কম। দিনে ৫–১০ কেজি ইলিশ আসে। তাই দাম বেশি। সিন্ডিকেটের সুযোগ নেই।”
এদিকে, চাঁদপুর সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক জানান, “মৎস্য বিভাগ মূলত সরবরাহ ও সংরক্ষণের বিষয়টি দেখে। দাম নির্ধারণ আমাদের এখতিয়ারে নয়, তবে সময় অনুযায়ী বাজারদরের তথ্য সংরক্ষণ করি।”
চিঠিতে জেলা প্রশাসক আরও উল্লেখ করেন, চাঁদপুরে ইলিশের দাম নির্ধারণ করা হলেও তা তেমন কার্যকর হবে না যদি অন্য উপকূলীয় জেলা—যেমন ভোলা, বরগুনা, বরিশাল, কক্সবাজার, নোয়াখালী ইত্যাদি—তথ্য বিবেচনায় এনে সার্বিকভাবে দাম নির্ধারণ না করা হয়।

