সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধনের সিদ্ধান্তে ঐকমত্যে পৌঁছেছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। সংশোধনী প্রস্তাবটি পাশ হলে সংসদ সদস্যরা অর্থবিল ও আস্থাভোট ছাড়া স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ ও ভোট প্রদান করতে পারবেন।
মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের মুলতবি বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বৈঠকে দেশের ৩০টি রাজনৈতিক দল অংশ নেয়। তবে জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধি দল অনুপস্থিত ছিল। কমিশনের পক্ষ থেকে তাদের জন্য ৩০ মিনিট অপেক্ষা করা হলেও শেষ পর্যন্ত তারা বৈঠকে অংশ নেয়নি।
বৈঠকে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দলগুলোর মধ্যে আংশিক বা পূর্ণ ঐকমত্য তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে:
-
নারী আসন সংখ্যা ৫০ থেকে বাড়িয়ে ১০০ করা,
-
সংসদের স্থায়ী কমিটিগুলোতে বিরোধীদলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ চারটি কমিটিতে এবং অন্যান্য কমিটির অর্ধেক সভাপতির পদে বিরোধীদলীয় এমপিদের অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব।
ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রিয়াজ বৈঠক শেষে জানান, “অনুচ্ছেদ ৭০-এর বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে। কেবল অর্থবিল ও আস্থা ভোটের ক্ষেত্রে দলীয় সিদ্ধান্ত বাধ্যতামূলক থাকবে। অন্য সব বিষয়ে এমপিরা মত প্রকাশে স্বাধীন হবেন।”
তিনি আরও বলেন, “নারী আসনে সরাসরি নির্বাচনের বিষয়ে পরবর্তী বৈঠকে আলোচনা হবে। উচ্চকক্ষ, প্রধান বিচারপতি নিয়োগসহ কিছু বিষয়ে এখনো মতভেদ রয়েছে।”
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, “আমরা প্রধান বিচারপতি নিয়োগে রাষ্ট্রপতির জন্য কিছু যোগ্যতা নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছি। অধিকাংশ দল এতে একমত। উচ্চকক্ষে ১০০ আসনের প্রস্তাবও বেশিরভাগ দলের সমর্থন পেয়েছে।”
গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি বলেন, “দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ হলে ক্ষমতার ভারসাম্য ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সম্ভব।”
বৈঠকে অনুপস্থিত থাকা জামায়াতে ইসলামী পরে অনানুষ্ঠানিকভাবে জানায়, সম্প্রতি যুক্তরাজ্যে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ও তারেক রহমানের বৈঠক এবং যৌথ বিবৃতি নিয়ে তাদের আপত্তি ছিল। তারই প্রতিবাদ হিসেবে তারা মঙ্গলবারের বৈঠক বর্জন করেছে।

