যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির আজ (বুধবার) হোয়াইট হাউজে মধ্যাহ্নভোজে মিলিত হচ্ছেন। বৈঠকটি গোপনীয় পরিসরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যেখানে সাংবাদিকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
জেনারেল মুনির ১৪ জুন থেকে যুক্তরাষ্ট্র সফরে রয়েছেন এবং এই বৈঠক পূর্বনির্ধারিত ছিল বলে জানানো হয়েছে। ট্রাম্পের সঙ্গে এ বৈঠক এমন এক সময়ে হচ্ছে যখন মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা ক্রমবর্ধমান। এই প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান আবারো আলোচনায় এসেছে।
ইরানি জেনারেল মোহাম্মদ হোসেন বাঘেরির সঙ্গে মে মাসে দেখা করেছিলেন আসিম মুনির। পরে ১৩ জুন একটি ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় বাঘেরি নিহত হন বলে দাবি করে ইরানি গণমাধ্যম। এই ঘটনার ঠিক পরপরই মুনিরের মার্কিন সফর এবং ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা পুনর্গঠন করতে চাইছে ইসলামাবাদ। অপরদিকে চীনের সঙ্গে জোরালো সামরিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কও বজায় রাখছে পাকিস্তান। জানা গেছে, চীন পাকিস্তানকে অত্যাধুনিক J-35 স্টেলথ যুদ্ধবিমান সরবরাহ করতে যাচ্ছে, যা দক্ষিণ এশিয়ায় শক্তির ভারসাম্য পরিবর্তন করতে পারে।
মুনিরের মার্কিন সফর ঘিরে ওয়াশিংটনে বিক্ষোভ হয়েছে। মানবাধিকার লঙ্ঘন ও স্বৈরতান্ত্রিক নেতৃত্বের অভিযোগে তাকে ‘স্বৈরাচারী’ আখ্যা দিয়ে ব্যানার ও স্লোগানে ভরিয়ে তোলা হয়েছে স্থানীয় হোটেল চত্বর।
ট্রাম্প ও মুনিরের বৈঠক মার্কিন নির্বাচনের প্রাক্কালে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা এবং কৌশলগত স্বার্থ রক্ষায় নতুন বার্তা দিতে পারে। যদিও বৈঠকের বিস্তারিত আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি, তবে এটি যে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে, তা স্পষ্ট।

