রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

সন্ত্রাস ও কূটনৈতিক উত্তেজনা: ট্রাম্প-মোদি ফোনালাপে ‘অপারেশন সিন্দুর’ প্রধান আলোচ্য

ডেস্ক রিপোর্ট।।

ভারতীয় ভূখণ্ডে জঙ্গি হামলার পর ‘অপারেশন সিন্দুর’ ঘিরে ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে নতুন উত্তেজনার মধ্যে ফোনালাপে যুক্ত হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বুধবার (১৮ জুন) দুই নেতার মধ্যে প্রায় ৩৫ মিনিটের এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয় বলে নিশ্চিত করেছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি জানান, আলোচনা মূলত ভারতের সাম্প্রতিক সামরিক অভিযান ‘অপারেশন সিন্দুর’ ঘিরে কেন্দ্রিত ছিল। মোদি স্পষ্টভাবে জানান, ২২ এপ্রিল কাশ্মীরের পহেলগামে জঙ্গি হামলার পর ভারত সুনির্দিষ্ট ও পরিমিত প্রতিক্রিয়া দিয়েছে, যার লক্ষ্য ছিল পাকিস্তান ও পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে থাকা জঙ্গি ঘাঁটিগুলো।

প্রধানমন্ত্রী মোদি ট্রাম্পকে বলেন, ভারতের অভিযানে পাকিস্তানি সামরিক স্থাপনার উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে এবং এরপরই পাকিস্তান হামলা বন্ধের অনুরোধ জানাতে বাধ্য হয়।

টেলিফোন সংলাপে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়েও সংক্ষিপ্তভাবে আলোচনা হয় বলে জানানো হয়েছে। বিশেষ করে ইরান-ইসরায়েল সংঘর্ষের পারমাণবিক ঝুঁকি ও মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নের আশঙ্কা উত্থাপিত হয়।

এদিকে, মোদি-ট্রাম্প ফোনালাপের ঘণ্টাখানেক পরই হোয়াইট হাউজে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির। বিষয়টিকে কূটনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা।

ফোনালাপে মোদি স্পষ্ট করেন যে, এই পুরো ঘটনার সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো মধ্যস্থতার প্রস্তাব আসেনি এবং ভারত-মার্কিন বাণিজ্য আলোচনাও এতে প্রভাবিত হয়নি।

মিশ্রি বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভারতের অবস্থান মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং সন্ত্রাসবাদবিরোধী অভিযানে ভারতের পাশে থাকার বার্তা দেন।”

জানা যায়, জি-৭ সম্মেলনে ট্রাম্প ও মোদির মধ্যে সরাসরি বৈঠকের পরিকল্পনা ছিল। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সম্মেলন থেকে পূর্বনির্ধারিত সময়ের আগেই ফিরে যাওয়ায় সেই বৈঠক আর সম্ভব হয়নি। ফলে ফোনালাপের মাধ্যমেই দুই নেতার মধ্যে আলোচনার পথ খোলা রাখা হয়েছে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন