ইসলামে পর্দা শুধুমাত্র নারীদের জন্য নয়, বরং নারী ও পুরুষ—উভয়ের জন্যই ফরজ বিধান। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে মুমিনদের উদ্দেশে দৃষ্টি সংযত রাখা ও লজ্জাস্থানের হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।
সুরা নূর এর আয়াত ৩০ ও ৩১-এ স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে,
“মুমিন পুরুষদের বলো, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে… আর মুমিন নারীদের বলো, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং নিজেদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে…”
এই আয়াত থেকে পরিষ্কারভাবে বোঝা যায়, ইসলামে দৃষ্টির পবিত্রতা ও চারিত্রিক সংযম নারী-পুরুষ সবার জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সাহাবি আলী (রা.)-কে উদ্দেশ করে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
“হে আলী! প্রথম দৃষ্টির জন্য ক্ষমা রয়েছে, কিন্তু দ্বিতীয় দৃষ্টির জন্য নয়।”
(সুনানে আবু দাউদ)
এ থেকে বোঝা যায়, ইচ্ছাকৃতভাবে গায়রে মাহরাম নারীর দিকে তাকানো গুনাহ, আর অনিচ্ছাকৃতভাবে চোখ পড়লে সঙ্গে সঙ্গে দৃষ্টি ফিরিয়ে নেওয়া উচিত।
তবে বিয়ে করার ইচ্ছা থাকলে, হবু বর ও কনের জন্য একে অপরকে দেখা সুন্নত। রাসুলুল্লাহ (সা.) সাহাবিদের উৎসাহ দিতেন বিয়ের আগে কনেকে দেখে নিতে।
হাদিসে এসেছে,
“যখন তোমাদের কেউ কোনো নারীকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়, সে যেন তার কিছু দেখে নেয় যা তাকে বিয়েতে আগ্রহী করে তোলে।”
(সুনানে আবু দাউদ: ২০৮২)
তবে দেখা-সাক্ষাত সীমার মধ্যে থাকতে হবে। একে অপরকে স্পর্শ করা বা নির্জনে একান্তে সময় কাটানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
আমাদের সমাজে কনে দেখতে গিয়ে উপহার দেওয়ার যে রীতি রয়েছে, তা ইসলামসম্মত, যদি তা পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে হয়। বর ও কনে চাইলে একে অন্যকে উপহার দিতে পারে।
তবে মনে রাখতে হবে, কনেকে দেখার অনুমতি শুধুমাত্র বরের জন্য। তার বাবা, ভাই, বন্ধু কিংবা গায়রে মাহরাম অন্য পুরুষের কনেকে দেখার কোনো সুযোগ নেই।
ইসলামে পর্দা শুধুই কাপড় দিয়ে শরীর ঢাকার বিষয় নয়, বরং দৃষ্টি, আচরণ ও অন্তরের পবিত্রতার একটি সামগ্রিক বিধান। এই বিষয়ে কোরআন ও হাদিসে যে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, তা ব্যক্তি চরিত্র ও সমাজকে পরিশুদ্ধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

